
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে বসবাস করছে মধ্যবয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী।
জানাগেছে, অজ্ঞাত ওই নারীকে নাম জিজ্ঞেস করলে,বলেন তার নাম রুমা। ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে কোন উত্তর দেয়না ও তার নিজের সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেনা সেই নারী।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, মাসতিনেক আগে ঝিনাইগাতী বাজারের অলিগলিসহ হাসপাতাল চত্বরে দেখা মিলতো ওই নারীর। প্রথম দিকে কারো সাথে তেমন কথা বলতোনা এখন নাম জিজ্ঞেস করলে তার নাম রুমা বলে জানায়। ঠিকানা সম্পর্কে কিছু না বলতে পারলেও তার নাম রুমা এটা নিশ্চিত বুঝা যায়। স্থানীয় চা দোকানীরা মাঝে মধ্যে চা বিস্কুট খাওয়াতো রুমাকে।
স্থানীয়রা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার পরিবারের পরিচয় বের করা জরুরী। তার প্রকৃত চিকিৎসাও প্রয়োজন। তাহলে হয়তো রুমা আবারও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
ঝিনাইগাতী সদরের ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির বলেন, ওই নারীর বিষয়ে আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপাতত তাকে খাবার ও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। তার পরিচয়ের বিষয়ে শুধু রুমা বাদে আর কিছুই বলতে পারেনা। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা তার পরিবারের খোঁজ পাবো।
মো; ইন্তাজ আলী বলেন, রুমা মানসিকভাবে অসুস্থ। অনেক কিছুই সে মনে রাখতে পারে না। সকালের কথা সে বিকেলে বলতে পারে না। মন হয় তার চিকিৎসা প্রয়োজন। আমার এখানে সে মাঝে মাঝে আসলে আমি তাকে খাবার দেই, সে বসে বসে খায়, খাওয়া শেষ হলে চলে যায়। সারাদিন ঘুরাফেরা করে রাতে হাসপাতাল চত্বরের দিকে গিয়ে রাত্রি যাপন করে আবার কখনো ভাঙা অ্যাম্বুলেন্সের দিকে যাইতে দেখা যায়। মো.হানিফ বলেন, মহিলাটি খুবই শান্তভাবে থাকে মাঝে মাঝে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার পরিবারের পরিচয় বের করা দরকার। এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া হলে হয়তো রুমা আবারও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। একই কথা জানান স্থানীয় আরও অনেকে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল-আমিন বলেন, নারীটি অজ্ঞাত ও মানসিক প্রতিবন্ধী। যেহেতু হাসপাতাল চত্বরে থাকেন, আমরা তার খোঁজ নেওয়ার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার কোনো আত্মীয়-স্বজনকে পাওয়া গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হতো।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের (ওসিসি) জেলা কর্মকর্তা অমিত শাহরিয়ার বাপ্পী বলেন, আমি ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের কাছে ওই নারীর সম্পর্কে শুনেছি নারীটি মানসিক প্রতিবন্ধী বলেও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। যেহেতু আমরা অসহায় নারী নিয়ে কাজ করি, আমাদের পক্ষ থেকে ওই নারীর চিকিৎসার কাজ করা সম্ভব। তবে শেরপুরে যেহেতু সেইফ হোম নেই, তাই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বছির আহমেদ বাদল বলেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে আমরা রুমার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তার ছবি তুলে তার পরিচয় জানার চেষ্ট করছি। থানা থেকেও তার খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়।