
নুরুল আলম:: সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করেই প্রশাসনের দোহাই দিয়ে তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনা নির্মাণের কাজে বিক্রয়ের মেতে উঠেছে একটি পাহাড় খেকো মহল। যেখানে সেখানে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয়ে মহাৎসব চলছে। জনগনের ভগান্তি বাড়ছে। সড়কের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। চলাচলকারীদের রাস্তাঘাটে হাটার সময় রাস্তাঘাটে পরে থাকা ধুলাবালির কারনে বিভিন্ন রোগবালাই হচ্ছে। এসবের কোনো শান্তি মূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার পাহাড় খেকোরা দিন দিন ব্যপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় রাতের আধারে কাটা হয় এসব পাহাড়। উন্নয়ন মূলক কাজের দোহাই দিয়ে তারা এসব পাহাড় কেটে যাচ্ছে।
জানা যায়, পাহাড় খেকো চক্রটি ছোট বড় পাহাড় কেটে মাটিগুলো বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থাপনা নির্মাণ কাজে বিক্রয় করে থাকে। প্রতি গাড়ি মাটির দাম আনুমানিক ১ হাজার ৮শত থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রয় করে থাকে। এছাড়াও ট্রাক্টারে মাটি নিলে ১হাজার থেকে ১হাজার ২শত টাকা দরে বিক্রয় করে এসব অবৈধ ভাবে কর্তন করা মাটি। এসব মাটি কাটার ফলে এক দিয়ে সড়কের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে অন্য দিকে সাধারণ পথচারীরা ধুলাবালির কারনে বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হচ্ছে।
পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শহিদুজ্জামান বলেন, সরকারি অনুমতিবিহীন পাহাড় কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার সাথে যে বা যাহারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পরিবেশবাদীদের মতে, পাহাড় কাটলে এক সময় ভাড়ী বর্ষণ মৌসুমে পাহাড় ধসে সাধারণ মানুষের প্রাণহানী ঘঠতে পারে। এর আগেও খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে ব্যপক প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে। তাই অবেধ ভাবে এসব পাহাড় কাটা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। অন্যথায় যারা অনুমতি বিহীন পাহাড় কাটবে তাদের বিরুদ্ধ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানায়।
সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ‘পাহাড় আর কাটা হবে না। এটা আমার মুখের কথা নয়। এটা নির্দেশ। ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ আইনেও এ সংক্রান্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাহাড় কাটা ক্রিমিনাল অফেন্স।’