
নেত্রকোণা শহরে নিজ ঘর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জোছনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে শহরের নিউটাউন বিলপাড় এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জোছনা বেগম শহরের নিউটাউন বিলপাড় এলাকার মৃত আবুল মুন্সীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মিল্টন মোল্লার সঙ্গে নিউটাউন বিলপাড়ের বাসায় বসবাস করতেন জোছনা বেগম। প্রায় ১০ দিন যাবৎ মিল্টন ও তার স্ত্রীও বাড়ির বাহিরে থাকায় কয়েকদিন ধরে বাসায় একা ছিলেন তিনি। সোমবার ছেলে মিল্টন সারাদিন বারবার ফোনকল করেও মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারছিলেন না। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মামা ফেরদৌস দরজার তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে হাত, পা বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে জোছনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোণা জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আনুমিক আজ বেলা তিনটা নাগাত তিনজনকে আটক করে। আটককৃতরা প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
আটককৃত তিনজনের মধ্যে একজন নিহত জোছনা বেগমের নাতি( বড় ছেলে মিল্টনের ছেলে) জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার চাচার গাড়ি বিক্রির ১০ লাক্ষ টাকা তার দাদির কাছে ছিল। সেই টাকা চুরি করে নেয়ার জন্যই সে তার বন্ধুসহ বাড়িতে যায়।
কিন্তু তার দাদি তাদের কে দেখে ফেলে এবং তাকে চিনতে পারে যার ফলে তারা এ হত্যাকান্ড ঘটায়। এবিষয়ে নিহতের ছেলে নাজমুল হাসান রুজেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। আসামীদের আদালতে স্বীকারোক্তির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।