
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের ৪ টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৩০ জন প্রার্থী। প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ২ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে১ জন বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রবিবার (গত ৭ ই জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ সাইদুল আরীফ। ভোটের সূত্রানুসারে ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ২৩ জনই জামানত হারিয়েছেন। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
এই ফলাফলের প্রেক্ষিতে জানা যায়, কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী) আসন থেকে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৬৩। আসনের ২২৯ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৭। এর মধ্যে জাপা প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ৮৮ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীকে পান ৬১ হাজার ১২৩ ভোট। অপর তিন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশের (১৯ হাজার ২০৯ ভোট) কম ভোট পেয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ২০২। আসনের ২০৪ কেন্দ্রে ভোট পড়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫২। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৯২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । স্বতন্ত্র প্রার্থী ( ট্রাক প্রতীক) ডা. হামিদুল হক খন্দকার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাপা প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ১০০ ভোট। অপর ৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কেউই এক অষ্টমাংশ (১২ হাজার ৭৪১) ভোট পাননি।
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৬১। আসনের ১৩৯ কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৯৮ হাজার ২৯। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. আক্কাছ আলী সরকার ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৬০ ভোট। আপর ৫ প্রার্থীর কেউই প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ (১২ হাজার ২৫৩) ভোট পাননি।
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসন থেকে সর্বাধিক ১১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪০৬। নির্বাচনে ১৩০ কেন্দ্রে ভোট পড়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫২৫।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে হটিয়ে নৌকার বইঠা পাওয়া আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশ নৌকা প্রতীকে ভোট পান ৮১ হাজার ১৩২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ঈগল প্রতীকে পান ১২ হাজার ৬৫২ ভোট। তবে এতেও তার জামানত রক্ষা হয়নি। তিনিসহ এই আসনের ১০ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ (১৪ হাজার ৯৪০) ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৩২। এর মধ্যে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪ সংসদীয় আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৩। যা মোট ভোটের ২৯ দশমিক ৭২ ভাগ।
জেলা নির্বাচন অফিসার কুড়িগ্রাম মো. জিলহাজ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার আসনের প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট না পেলে ঐ প্রার্থীর জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। অংক সূত্রে মোট ২৩ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জামানত হারায় বলে জেলা নির্বাচন অফিস কুড়িগ্রাম সূত্রে জানা যায়।