
দেশে চলছে শীতল সমীরণ। দেশ জুড়ে চলছে হাড়কাপনো শীতের দাপট। হালকা বাতাশে যার প্রভাব বেড়েছে কয়েকগুন।এমন শীতের রাতেই ছেলে জারিফ, মেয়ে জারা ও ছোট ছেলে জাবিরকে নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন মা। কি তাদের পরিচয় কেউ তখনও জানেন না। তবে তাদরে সঙ্গে থাকা র্যাবের পোশাক পরিহিত দুইজনকে দেখে মানুষ বুঝতে পারেছেন কোনো এক সরকারি কর্মকর্তার পরিবার অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন।
রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে র্যাবের পোশাক পরিহিত দুজনের সহায়তায় এক নারী শীতার্থ মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করছেন। সঙ্গে তার ছোট তিন সন্তান। শীত নিবারণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কম্বল বিতরণের খবরে অল্প সময়েই ভীড় জমে যায় অসহায় পথশিশু ও বাস্তহারা নারী-পুরুষের। সবাইকে দেওয়া হয় কম্বল ও শীতের পোষাক।
গত বৃহস্পতিবার (০৪জানুয়ারি) রাতে বিমানবন্দর রেল স্টেশন এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রয়াত ও র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান শহীদ লে. কর্ণেল আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী ও সন্তানরা।
এসময়, বিমানবন্দর রেল স্টেশন এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন তারা। মুহুর্তের মধ্যেই প্রায় অর্ধশত সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ভীড় জমে যায়। সবার মাঝেই বিতরণ করা হয় শীত বস্ত্র।
ব্যক্তিগত অর্থায়নে শীতার্ত ও গরীব অসহায়দের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণের সময়ে সিলেটের আতিয়া মহলের জঙ্গী হামলায় নিহত র্যাবের প্রয়াত ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান শহীদ লে. কর্ণেল আবুল কালাম আজাদের সহধর্মিণী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। শীত বস্ত্র বিতরণ শুধুমাত্র অসহায় মানুষের প্রতি করুণা নয়, হৃদয়ের মানবতাবোধকে জাগ্রত করা ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করা বোধ থেকেই এ কাজ করি।
তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো আমার বাবার থেকে শিখেছি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এভাবে সহায়তা দিয়ে আসছি। যত দিন বেঁচে থাকবো সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমাদের মত মানুষ যদি এদের পাশে না দাড়ায় কোথায়, কার কাছে গিয়ে সাহায্য পাবেন তারা।
ডিআই/এসকে