
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওররক্ষা বাঁধের কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই বাড়িতে চার পিআইসিসহ অযোগ্য, অদক্ষ,ব্যক্তিদের পিআইসিতে যুক্ত করা হয়েছে। কমবয়সী তথাকথিত কৃষকের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে পিআইসিতে। এতে হাওরপাড়ের দক্ষ,যোগ্য ও সামর্থবান প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ দিয়ে কথিত দালালদের সুবিধা পাইয়ে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হাওর তীরবর্তী কৃষকদের মাঝে নীরব অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
জানা যায়, শ্রীপুর দঃ ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের
জুনায়েদ মিয়া একাই দুইটি পি আই সি হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার চাচাত ভাই বউ কে নিয়ে দিয়েছেন আরেকটি পি আই সি কমিটি।জুনায়েদ মিয়া বর্ধীত গুরমা ৫ নম্বর পি আইসি কমিটির সভাপতি তার আপন ছোট ভাই মুবাশ্বির ৬ নম্বর পি আইসি কমিটির সদস্য সচিব তার চাচাত ভাই বউ নাজমা ৪ নম্বর পি আইসি কমিটির সদস্য সচিব।অন্যদিকে একই গ্রামের জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র সুজাত চৌধুরী ৮ নম্বর পি আইসি কমিটির সদস্য সচিব আরেক ছেলে এনায়েত হোসেন চৌধুরী ১১ নম্বর পি আইসি কমিটির সদস্য সচিব।
৪.৫.৬.৮.১১ নম্বর পি আইসি কমিটি দালাল সেন্ডিকেট ব্যাক্তিরাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে জানা গেছে।
পিআইসিতে যুক্ত বেশিরভাগ মানুষই কাজ করার সামর্থ রাখেন না। তারা নামকাওয়াস্তে পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব হলেও তাদের নাম ব্যবহার করে মূলত কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে মধ্যস্বত্যভোগীরা।
পাঠাবুকা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন,‘যাদের কাজ করার সামর্থ ও অভিজ্ঞতা কোনোটাই নেই তাদের পিআইসি দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিয়নে আমার ওয়ার্ডেই পিআইসি সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কাজ দেওয়া হয়েছে অনেক অযোগ্যকে। যাদের যোগ্যতা আছে তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এতে কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’
মাঠিয়ান হাওরের পারের কৃষক ও পরিবেশ কর্মী আব্দুল আমিন বলেন, প্রতি বছর নিতিমালা অনুযায়ী গনশুনানীর মাধ্যমে পি আই সি কমিটি গঠন করা হয় এই বৎসর গনশুনানী করার পর এসও এক দালালের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষককে বাদ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সুপারিশে কয়েকটা কমিটি দিয়ে বাকি প্রায় অনেক কটি কমিটি প্রতিটি এক লক্ষ করে টাকার বিনিময়ে দিয়েছে যাহা নিতীমালা বহির্ভূত। আমরা প্রকৃত কৃষক যারা আছি তারা এই অনিয়মের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই, প্রতি বছর যারা সফলতার সাথে পি আই সি কমিটির কাজ করে তাদেরকেও বাতিল করা হয়েছে।আমরা হাওরবাসী এই অনিয়মতান্ত্রীক প্রকাশিত কমিটি বাতিলের দাবি জানাই।
হাওর বাঁচাও তাহিরপুর উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক তুজাম্মেল হক নাছরুম বলেন, ‘যদি কোনো পিআইসি নিয়ে বিতর্ক কিংবা অভিযোগ ওঠে, তাহলে এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে আমি মনে করি।’প্রকৃত কৃষকরা যদি বাদের কাজ পায় তাহলে হাওরের ভালো কাজ হবে।
উপজেলা কবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মনির হোসেন সকাল ৯. ২৬ মিনিটে ০১৭৫৪২৭৫০৫৩ নাম্বারে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায় মাঝে মধ্যে ফোন খোলে অন্যদের সাথে কথা বল্লেও সাংবাদিকদের ফোন দেখলে ফোন বন্ধ করে রাখেন বলে ওনার বক্তব্য নেওয়া সম্বভ হয়নি।
উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিন বলেন এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে ।