
রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
তার নাম মো. নাজির হোসেন (৩৮)। এসময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশি ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু চক্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল টাকা তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। জাল টাকা তৈরি থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তারা কাজ করে থাকেন।
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক শিহাব করিম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষার জন্য জাল টাকা চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের পাশাপাশি বাজার থেকে জাল নোট উদ্ধারের লক্ষ্যে র্যাব-২ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নাজির হোসেনকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে গ্রেফতার নাজির জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশিপুর এলাকায় একটি এ্যামব্রয়ডারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুটি সাদা নেগেটিভ ফ্লিম ট্রেসিং পাতা, ৩টি কাঠের ফ্রেমের মধ্যে স্ক্রীন (ডাইস), একটি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি নিরাপত্তা সুতা ব্লক, সোনালী রংয়ের লিকুইড, একটি পুরাতন লেনেভো ব্রান্ডের মনিটর, একটি ডেল ব্রান্ডের সিপিইউ, দুটি কী-বোর্ড, ৪টি মাউস, একটি ক্যানন প্রিন্টার, একটি এন্টি কাটার, একটি মোবাইল, দুটি রিম লিপি গোল্ড মর্ডান এফোর পেপার, তিনটি খালি সিরিঞ্জ, চারটি কালির বোতল, নিরাপত্তা সুতার কাগজ ৫ পৃষ্ঠা ও একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথামিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার নাজির জানায়, সে জাল টাকা তৈরির সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় এ্যামব্রয়ডারি করখানার চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কম্পিউটার ফটোশপ সফট্ওয়্যার ও বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাংলাদেশি বিভিন্ন মূল্যমানের টাকার জাল নোট তৈরি করে আসছিল। পরে তা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ এবং বিক্রি করা হতো।
প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা।
ডিআই/এসকে