
আগামী ৭ জানুয়ারী ২০২৪ অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২(আশুগঞ্জ-সরাইল) আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় লড়াই হবে স্বতন্ত্রদের মাঝে। উক্ত আসনে ভোটের মাঠে মোট প্রার্থী ৭ জন । উক্ত ৭জন প্রার্থীই এখন ভোটের মাঠে লড়াই করছেন।তবে প্রার্থী সংখ্যা ৭ জন হলেও মুলতঃ ভোটের লড়াই দ্বিমুখী হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে এবার তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বেশ আলোচনায় রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবার মাঠে নেমেছেন বেশ অনেকটা জোরে সোরেই।উক্ত আসনের ভোটাররা বলছেন, এবারকার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ সরাইল-আশুগঞ্জে) আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈনুদ্দিন মঈন (কলার ছড়ি) জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া (লাঙ্গল ), ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত ( মিনার),ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. রাজ্জাক হোসেন (আম), তৃণমূল বিএনপির মাইনুল হোসেন তুষার (সোনালী আঁশ)সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জিয়াউল হক মৃধা( ঈগল) ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ ( ফুলের মালা) ।
ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনটিতে মোট ১৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই ১৭ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা চার লক্ষ দশ হাজার উনআশি। তার মধ্যে সরাইল উপজেলায় মোট ভোটার ২৬৬৬১২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪২৩৩৮ ও মহিলা ভোটার ১২৪২৬৬ জন। আশুগঞ্জ উপজেলায় ভোট ভোটার ১৪৩৪৬৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫০৬৯ জন ও মহিলা ভোটার ৬৮০৩৯ জন।নির্বাচনে জাতীয় পার্টি , স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও মুলতঃ এ আসনটিতে দুজন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে।
তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মঈন উদ্দিন এবং অপনজন হলেন দুবারের মহাজোটের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জিয়াউল হক মৃধা । এই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতিকে কোন প্রার্থী দেয়নী।
উল্লেখ্য যে,স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা মহাজোটের সমর্থনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ২০০৮, ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ২০২৩ সালে এই আসনের উপ
নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। দুটি নির্বাচনেই তিনি জয়ী হতে পারেননি।
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মঈন উদ্দিন মঈন। সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।তাও আবার দলীয় কোন্দলের কারণে। এবারও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সে জন্য তিনি ভোটের লড়াইয়ের জন্য খুব শক্তভাবেই প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।দিনরাত তার কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুদ্দিন মঈন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন মাঠে-ময়দানে জনগণের সঙ্গে কাজ করেছি। তৃণমূল পর্যায়ে আমার রয়েছে গভীর যোগাযোগ। বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলাম। সামান্য ভোটে হেরেছি। জনগণের চাপের মুখে আমি এবারও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছি।’ আশা করি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।তিনি নির্বাচনী এলাকার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জনসেবক হওয়ার জন্য নিজেকে তিনি এবার ভোটে জেতানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এলাকার মানুষের উপর।
তাই আগামী ৭ জানুয়ারি আপনারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কলার ছড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমাকে আপনাদের সেবক হিসেবে পাশে রেখে কাজ করার সুযোগ দিবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘এই আসনে দুবার সংসদ সদস্য ছিলাম। আমি রওশন এরশাদপন্থী, তাই আমাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।’ এই আসনের ভোটার মাসুদ কামাল জানান, ব্রাহ্মনবাড়িয়া- ২ আসনটি দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আশুগঞ্জে ভোট কম, সরাইলে ভোট বেশি।
মঈন উদ্দিনের নিজ বাড়ি আশুগঞ্জ উপজেলায় এবং জিয়াউর হক মৃধার বাড়ি সরাইল উপজেলায়। সে হিসেবে মঈনুদ্দিন মঈন তার কর্মী- সমর্থকদেরকে নিয়ে দিনরাত নির্বাচনী মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং ভোটারদের মন খুশী করতে নিজের মতো করে ভোট চাইছেন। সাথে প্রতিশ্রুতি ও দিচ্ছে।সরাইল উপজেলায় প্রার্থী রয়েছেন ৩ জনের অধিক। তন্মধ্যে আবার জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম জিয়াউল হক মৃধার আপন জামাতা। ভোট যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুজনেই মাঠে রয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তে কি দাড়ায়,তা এখন দেখার বিষয়।শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত যদি রেজাউল করিম বা অন্যরা নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকতে পারেন,সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুদ্দিন মঈনের জয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।