
রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীতে গৃহকর্মী আসমা বেগমের মৃত্যুর ঘটনার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের ওপর হামলা ও বাসাটিতে অগ্নিসংযোগ করে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এই মামলা দুটির একটি বাদী পুলিশ ও অপরটির বাদী হয়েছে বাসার মালিকের গাড়িচালক।
নিহত আসমা বেগমের ছেলে, পুলিশ ও বাসার মালিকের চালক বাদী হয়ে রামপুরা থানায় তিনটি পৃথক মামলা করেন। অপমৃত্যু মামলা বাদে বাকী দুটিতে হাজারের ওপর অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে আমিসহ আহত হন পুলিশের তিন সদস্য। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে তিনটি মামলা হয়েছে। একটির আসমার ছেলে আজিজুল বাদী হয়েছে। অন্য দুটির মধ্যে একটির বাদী পুলিশের এসআই কামরুল ইসলাম ও বাসার মালিকের গাড়িচালক উজ্জল ভুঁইয়া।
ওসি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করবো। ইতোমধ্যে কয়েকজকে শনাক্তও করা হয়েছে।
রামপুরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপমৃত্যু বাদে বাকি দুটির একটিতে পুলিশের কাজে বাধা, তাদের ওপর হামলা ও আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও আরেকটি বাসার নিচে গ্যারেজে আগুন দিয়ে তিন প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন বাদী উজ্জল ।
বাসাটির মালিক দেলোয়ার হোসেন একজন সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। তারমধ্যে কানিজ ফাতেমা তুবা নামের এক মেয়ের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন আসমা। মালিক দেলোয়ারের দাবি, আসমা মানসিক সমস্যা ভুগছিলেন।
উল্লেখ্য, গৃহকর্মী আসমা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে কানিজ ফাতেমার মিরপুরের বাসায় থাকতেন। ফাতেমা তিনদিন আগে গৃহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সকাল ৮টার দিকে ফোন পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। আগে থেকেই কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, যারা বলছিলেন মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে নিজেও সেখানে যান। লোকজন তখন শান্তই ছিল। হেলমেট হাতে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, এ সময়েই তারা ইট পাটকেল ছোড়া শুরু করলে ওসিসহ তিন পুলিশ আহত হন। ওই বাসার নিচে থাকা অন্তত তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নির্বাপণ করে।
ডিআই/এসকে