
অনলাইনে খণ্ডকালীন চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি চক্রের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
গ্রেফতারকৃত প্রতারক ইয়াসীর হিমেলের (৩০) কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইলফোন, ১০টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
সোমবার (১ জানুয়ারি) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইংয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল।
তিনি জানান, রোববার (৩১ ডিসেম্বর) নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানাধীন সাউদপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামি ইয়াসীর অনলাইনে খণ্ডকালীন চাকরি দেওয়ার নামে অর্থআত্মসাৎ করে আসছিলেন। পরে ভুক্তভোগী মো. আরাফাত হোসেন নামের প্রতারণার শিকার একজন ব্যক্তি রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি প্রতারণার মামলা (নং-২২) দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগে বলেন, ২৮ অক্টোবর তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ আইডিতে অনলাইনে খণ্ডকালীন চাকরির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি ক্ষুদে বার্তার (এসএমএস) পাঠানো হয়। পরে তিনি অফারে সাড়া দিলে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে প্রথমে গুগল ম্যাপ রিভিউ, অনলাইন ভোটিং সিস্টেম আপগ্রেডেশনের মতো কিছু সহজ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার টাস্ক দেয়।
টাস্কগুলো সম্পন্ন করার পর প্রতারক চক্রটি তার বিকাশ নম্বরে ৪৫০ টাকা পাঠায়। পরে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেনকে একটি টেলিগ্রাম আইডিতে যুক্ত করা হয়।
২৯ অক্টোবর প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২ হাজার টাকা পাঠানোর পর অভিযোগকারীকে বিকাশে ২ হাজার ৮শ টাকা লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হয়। এভাবে লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে অভিযোগকারীর কাছ থেকে দুই ধাপে আরও পাঁচ হাজার টাকা ও ১৮ হাজার টাকাসহ মোট ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই টাকার লভ্যাংশ চাইলে প্রতারকরা তাকে জানায়, লভ্যাংশসহ আগের টাকা ফেরত পেতে হলে তাকে আরও ৩৬ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। এরপর পাঠানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আরাফাত হোসেন প্রতারক চক্রের দেওয়া একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে আবারও কয়েক দফায় সর্বমোট ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা পাঠালে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
তিনি জানান, আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতার সংক্রান্ত রামপুরা থানা অধিযাচনপত্র পাঠালে এটিইউ প্রতারক চক্রের সদস্য ইয়াসীর হিমেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিআই/এসকে