
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯ নং ইউনিয়ন এর ৫নং ওয়ার্ডে তুলাতলি স্টেশন সায়ৈদ আনোয়ার হোসাইন তাহেরী আল জাবেরী আল মাদানী জামে মসজিদ সংলগ্ন খালেদ ষ্টোরের দোকানদার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সুজন(৩৫) এর বিরুদ্ধে এক বছর পূর্বের মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য দিয়ে প্রতারণা করার জন্য টাকা ফেরত চাওয়ায় কাস্টমারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
৩১ ডিসেম্বর ( রবিবার) সকাল সাড়ে দশটার সময় খালেদ স্টোরের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ উদমারা টাকুয়ার চর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা
মৃত মোঃ ফজলে করিম এর ছেলে কাতার প্রবাসী মোঃ ফারুক হোসেন (৩৩) এবিষয়ে অভিযোগ করে কয়েকজন গণমাধ্যমকে বলেন ; ” আমি রবিবার সকাল আনুমানিক দশটার সময় খালেদ স্টোরের দোকানদার মোঃ সুজনের কাছ থেকে দশ টাকা দিয়ে একটা জর্দা কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। আমার ব্যস্ততার কারণে দোকানের সামনে থাকা অবস্থায় জর্দার মোড়কে দেওয়া ডেট দেখতে ভুলে যাই। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে জর্দার কৌটা হাতে নিয়ে দেখি ব্রাদার্স কেমিক্যাল চাঁদপুর বাংলাদেশ ব্র্যাণ্ডের একটা রসিক জর্দা দোকানদার সুজন আমাকে দিয়েছে যেটা এক বছর পূর্বে ডেট ওভার হয়েছে। দেখা যায় ঐ জর্দার মোড়কে দেওয়া উৎপাদন ডেট ২০১৯ সালে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ডেট ২০২২ সালেই শেষ হয়েছে। মোড়কে দেওয়া মেয়াদ উত্তীর্ণ অনুযায়ী গত এক বছর পূর্বেই জর্দার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমি ফের দোকানে গিয়ে ডেট ওভার জর্দা টি ফেরত নিয়ে একটা ভালো ডেট ওভার না হওয়া জর্দা চাইলে দোকানদার ফের আমাকে আরেকটি এক বছর পূর্বের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া জর্দার কৌটা দিয়ে প্রতারণা করায় আমি সুজনের কাছে জর্দা নিবনা বলে আমার টাকা ফেরত চাওয়ায় দোকানদার সুজন আমাকে উপস্থিত কয়েকজন লোকের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তর্কের এক পর্যায়ে আমাকে মারধর করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমি তৎক্ষনাৎ বিষয়টি
জাতীয় ভোক্তা- অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হেল্পলাইন ১৬১২১ নম্বরে কল দিয়ে অভিযোগ করলে তারা আমাকে লক্ষ্মীপুর ভোক্তা- অধিকারের নিকটে একটা লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। লক্ষ্মীপুর ভোক্তা- অধিকারের মোবাইল নম্বর আমার কাছে না থাকায় আমি নিরুপায় হয়ে বিষয়টি কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানিয়ে অবিলম্বে দোকানদারের সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।”
এ বিষয়ে দোকানদার সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছ থেকে দশ টাকা দিয়ে একটা জর্দা কিনেছিল। ডেট ওভার হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমার মন ভালো না থাকায় তার সঙ্গে একটু তর্ক হয়েছে এর বেশি কিছু হয়নি। তাকে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে সে এতদূর আগাবে তা বুঝতে পারিনি।”
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন গণমাধ্যমকে বলেন, ” বিষটি নিয়ে সুজন ও ফারুকের মধ্যে তর্কাতর্কি হতে দেখেছি। দোকানদার সুজন, ফারুককে অনেক অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে শুনেছি কিন্তু মারধর করেছে কিনা তা দেখিনি। ”
এবিষয়ে রায়পুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুন বলেন, ” ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা ও খারাপ আচরণ করা বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি এই মূহুর্তে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত আছি। আপনি দোকানের ঠিকানা লিখে দিয়ে যান আমি সুযোগ করে মোবাইলকোর্ট বসিয়ে আইনী ব্যবস্থা নিব।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর ভোক্তা – অধিকারের মোঃ রুবেল হোসাইন বলেন, আপনি তাকে একটা অভিযোগ দিতে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি নিয়ে মোবাইলকোর্ট বসিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ”