
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২( রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী সেলিনা ইসলামের ঈগল মার্কার পোস্টার লাগালে ঘরবন্দী করে আগুনে পুড়ে মারার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
২৯ ডিসেম্বর ( শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটা থেকে ৪ টার সময় ৯নং ইউনিয়ন এর ৭ নং ওয়ার্ডে সালাউদ্দীন দেওয়ান বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী সালাউদ্দীন দেওয়ান কয়েকজন গণমাধ্যমকে বলেন , ” আমি একজন দিনমজুর। খেতখামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমি গত দুদিন ধরে কয়েকটা টাকার বিনিময়ে দিনমজুরী হিসেবে আমার ৭নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিনা ইসলাম এর ঈগল মার্কার পোস্টার লাগানোর কাজ করছি। আজকের বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিন টা থেকে ৪ টার সময় ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম হাওলাদার ১০ থেকে ১৫ জনের একটা ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে এসে আমাকে ডেকে ঘরের বাইরে আসতে বলে। আমি ঘরের দরজা খুলতেই আমি কার কথায়, কেন ঈগল মার্কার পোস্টার লাগিয়েছি এ কথা বলে, আমার শার্টের কলার চেপে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে একটা লাঠি দিয়ে আমার গায়ে পিঠা দেয়। এতে আমার চোখের ভ্রুর উপরে মারাত্মক জখম হয়। তৎক্ষনাৎ আমার মেয়ে তাজুল ইসলাম মেম্বারের দুটো পা জড়িয়ে ধরে বলল; আমার বাবারে মাইরেন না। আমার আব্বুরে মারলে আমাদের দেখবার কেউ নেই বলে মেম্বারের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায়।”
সালাউদ্দিন দেওয়ান আরও বলেন, “আমার মেয়ের কান্নাকাটি ও আকুতি শুনে মেম্বার মেয়েকে সড়িয়ে দিয়ে বলে, আজকের তোর মেয়ের জন্য তোকে ছেড়ে দিলাম। তোর ঘর যদি এখন আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলি তোর কোন বাপ তোকে ঠেকাবে? এরপর থেকে যদি তোকে আর ঈগল মার্কার পোস্টার লাগাতে দেখি তাহলে তোকে ঘরবন্দী করে আগুন জ্বালিয়ে পুড়ে মেরে ফেলবো।
তাজুল মেম্বার আমাকে প্রাণ নাশের ভয় দেখিয়ে জোর করে আমার লাগানো ঈগল মার্কার একটা ব্যানার আমাকে দিয়ে খুলতে বাধ্য করে। নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ এ কল দেই। অনেক সময় পরে হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ৫ জন পুলিশ আসেন। তারা তদন্ত করে চলে যান।
এছাড়া আমি এ বিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ করেনি। আমি খেঁটে খাওয়া গরীব মানুষ তাই এসব নিয়ে অভিযোগ করে ঝামেলায় জড়াতে চাইনা। দল যদি কোন ব্যবস্থা নেয় সেটা তাদের ইখতিয়ার।
আজকের আমার মেয়ে না থাকলে তাজুল মেম্বার আমাকে মেরেই ফেলতো। আমার কচি দুটি মেয়ের কান্নাকাটির জন্য আজকের বেঁচে গেছি। ”
এবিষয়ে সালাউদ্দিনের ১১ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের বলেন, ” আমার বাবাকে তারা কতকিছু বলছে আমি ভয়ে সবকিছু ভুলে গেছি। আমি মেম্বারের পা জড়িয়ে ধরে শুধু বলছি আঙ্কেল আমার বাবাকে মাফ করে দেন মাইরেন না। তারপর মেম্বার বলেন, যা তোর মেয়ের জন্য তোকে মাফ করে দিলাম তবে আধা ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার সব নামিয়ে ফেলবি। ”
এ বিষয়ে সালাউদ্দিনের স্ত্রী বলেন, ” আমি বাইরে কাজে ছিলাম, চিৎকার, সোরগোল শুনে দৌড়ে এসে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখি মেম্বার সহ যারা ছিল সকলে আমার স্বামীকে হুমকিধামকি দিচ্ছে। ভয়ে আমি তাদেরকে কিছু বলতে সাহস পাইনি। আমার মেয়ে সাদিয়ার জন্য আমার স্বামী আজকের বেঁচে গেছে না হয় ওরা আমার স্বামীকে ঈগল মার্কার পোস্টার লাগানোর জন্য মেরে ফেলতো। ”
এ বিষয়ে অভিযোগকারীর প্রতিবেশী ও প্রতক্ষদর্শী পিংকি বলেন, ” তাজুল মেম্বার তার লোকজন সহ এসে ঈগল মার্কার পোস্টার কেন লাগিয়েছে সেজন্য সালাউদ্দিনকে হুমকিধামকি দিতে দেখছি। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। ”
স্থানীয় খালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ” আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছি তাজুল মেম্বার তার দলবল নিয়ে সালাউদ্দিন কে হুমকিধামকি দিয়ে বলছে, ঈগল মার্কার পোস্টার যেগুলো লাগিয়েছে সেগুলো নামিয়ে দিতে। কিন্তু সালাউদ্দিনকে শুরুতে মারধর করছে কিনা তা দেখিনি। ”
৯নং ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জটিল মজুমদার বলেন, ” আমি সকাল সাড়ে ৭ টা থেকেই এলাকায় ছিলাম না কিছুক্ষণ পূর্বে এসেছি তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ”
তবে স্থানীয়রা বলেন, বিকেল সাড়ে তিন টা থেকে ৪ টার সময় সালাউদ্দিন কে ঈগল মার্কার পোস্টার লাগানোর জন্য তাজুল ইসলাম হাওলাদার মেম্বার হুমকিধামকি দিয়েছে শুনেছি। আমরা এর বেশি কিছু জানিনা। ”
এ বিষয়ে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম হাওলাদার কে বারবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির, পুলিশ পরিদর্শক ( নিঃ) সুরেজিত বড়ুয়া বলেন, ” একটা অভিযোগ পেয়েছি।অভিযোগকারীকে আমরা বুঝিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছি। উনি পরবর্তী পদক্ষেপ নিলে। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। “