ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
পঞ্চগড়ের বোদায় গুম, খুন, ছিনতাই, ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের নিয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী
চাঁদাবাজির অভিযোগে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
রাজধানীর’ খেতাপুড়ি ‘দখল করেছে পটুয়াখালীর ঝাউবন
ঝিকরগাছায় কিশোরকে বস্তা কিনতে পাঠিয়ে ভ্যান নিয়ে চম্পট
১৭ বৎসর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি ,দরকার হলে আবারো নামা হবে: আজিজুল বারী হেলাল
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়

আশুগঞ্জে শীতের পিঠার স্বাদ নিতে রানা’র দোকানে ক্রেতাদের ভীড়

কনকনে শীতে গ্রামবাংলার অন্যতম প্রিয় খাবার পিঠা। ঘরে ঘরে বেড়ে যায় পিঠার কদর। আর এ মৌসুমকে কেন্দ্র করে পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা ও কারিগরেরা।
এখন শুধু বাড়িতে নয়, শীত এলে বিভিন্ন পাড়া বা মহল্লার অলিগলিতে দেখা যায় হরেক রকমের পিঠার দোকান। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে চিতই পিঠার দোকান। মূলত কাঠ বা টিন দিয়ে এসব দোকান তৈরি করে থাকেন পিঠা বিক্রেতারা। আর সেই পিঠার স্বাদ নিতে দোকানে ভিড় জমান সব শ্রেণির পিঠাপ্রেমীরা।
দোকানগুলোতে বেচাকেনাও বেড়েছে প্রচুর। কারও পছন্দ তুলতুলে নরম চিতই পিঠা, আবার কারও পছন্দ কড়া ভাজা পিঠা। এর মধ্যে ডিম-চিতই ও দুধ-চিতই পিঠাও রয়েছে পছন্দের তালিকায়।এমনি একজন পিঠা বিক্রেতা রানা( ২৩)।৪ ভাই, ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। সংসারে তার মা ও রয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের ঘন কুয়াশা মাঝে জলন্ত চুলার আগুনে তৈরি হচ্ছে গরম গরম ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা সহ শীতের হরেক রকম পিঠা। শীত আসলেই মনে হয় বিভিন্ন পিঠা খাওয়ার সময় চলে এসেছে। গ্রাম থেকে বাজার সব জায়গায় পিঠা বিক্রেতাদের গরম গরম পিঠা বিক্রির একটি ধুম লেগে যায়।আশুগঞ্জ উপজেরার ষ্টেশন রোড এলাকার রানা নামে একজন পিঠা ব্যবসায়ী জানান, শীত এলেই তিনি চিতই পিঠা বিক্রয় করেন। সাংসারিক বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি পরিবারের একটু বাড়তি আয়ের জোগান দিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ পেশা ধরে রেখেছেন।
মুলতঃ তার বাবা প্রয়াত লাল মিয়ার কাছ থেকেই তার পিঠা তৈরীর হাতে খড়ি হয়।এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নী। বিগত ৩/৪ মাস আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর এখন পুরো ব্যবসার দায়িত্ব তার উপর।
অল্প খরচে ভালো লাভের আশায় প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি এ ব্যবসা করছেন।সাগর জানান, এতে করে তাঁর বেশ ভালো আয় হচ্ছে।পিঠা বিক্রেতা রানা শীতের মৌসুমে হরেক রকম পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে যাচ্ছেন। আর এই শীতের পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।রানা প্রত্যেকদিন ৪থেকে ৫শ পিছ পিঠা বিক্রি করে থাকেন। প্রতি পিছ পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করেন।
পিঠা খেতে আসা শাওন খান,সাজু,পিয়াল জানানা,প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আমরা বাজারে আসলে ষ্টেশন রোডের রানার দোকানে পিঠা খেতে চলে আসি। শীতের দিন গরম গরম চিতই পিঠা জ্বাল ভর্তা দিয়ে খেতে ভালোই লাগে। সিএনজি চালক সুমন মিয়া বলেন, গাড়ি চালিয়ে যখন শীতের মধ্যে এখান থেকে গরম গরম ধোয়া উঠা পিঠা খায়, তখন শীতের যে একটি আমেজ আছে সেইটা পরিপূর্ণ হয় বলে মনে হয়। এ বিষয়ে পিঠা বিক্রেতা রানা বলেন, শীত আসলেই আমি শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানিয়ে বিক্রি করি। আমি বিগত ৬ বছর যাবত বাবার সাথে পিঠা বিক্রি করে আসছি। বাবা মারা গেছেন ৩/৪ মাস হল।এখন একাই পিঠা বানিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আশুগঞ্জ উপজেলার ষ্টেশন রোডে রানার পিঠার দোকানে এলাকার ব্যবসায়ীক,গাড়িচালক,ছাত্র,চাকুরীজীবি ছাড়াও ষ্টেশন সংলগ্ন হওয়ার কারনে অন্যান্য অঞ্চলের লোকজন ও তার দোকানে পিঠা খেতে আসেন।পিঠা খেতে আসা একজন চাকুরীজীবি বলেন, আমরা অনেকেই একসাথে আড্ডা দিয়ে রানার দোকানে চলে আসি পিঠা খেতে। রানার হাতে বানানো এখানে বিভিন্ন রকমের ভর্তা দিয়ে পিঠা খেতে বেশ ভালো লাগে। প্রতিদিনই পিঠার আড্ডা দিয়ে থাকি আমরা।পিঠা বিক্রেতা রানা বলেন, পিঠার সময় অর্থাৎ শীতকাল শেষ হয়ে গেলে যখন পিঠা বিক্রি বন্ধ হয়ে যায় তখন আমি ফলজ ব্যবসা করি। যখন যে ফলের সীজন আসে,তখন তাই বিক্রি করি।

শেয়ার করুনঃ