ময়মনসিংহ থেকে পর্তুগাল যাচ্ছে ৩ নারী ফুটবলার

45

আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর,ময়মনসিংহ,ময়মনসিংহ থেকে প্রশিক্ষণের সুযোগে পর্তুগাল যাচ্ছে সিনহা জাহান শিখা,তানিয়া আক্তার তানিশা ও স্বপ্না আক্তার।
১১ জনের সঙ্গে পাঁচজনকে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত হিসেবে।এই ১১ জনের দুজন হচ্ছেন শিখা ও স্বপা আক্তার।তানিশা আছেন অতিরিক্ত পাঁচজনের তালিকায়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে বঙ্গমাতা নারী ফুটবলের সেরা ৪০ খেলোয়াড়কে নিয়ে বিকেএসপিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ১৬ জনের একটি দলকে বেছে নেয়া হয় উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য।বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০১৮ সালে রানার আপ ও পরের বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়া নান্দাইলের পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন এ তিন ফুটবলার।বর্তমানে শিখা নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছেন। স্বপ্না ও তানিয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের টমটমচালক বিপ্লব মিয়ার মেয়ে শিখা মূলত খেলেন লেফট উইংয়ে। একই এলাকার ইলাশপুরের কৃষক ফয়জুদ্দিন ফকিরের মেয়ে স্বপ্না গোলকিপারের দায়িত্ব পালন করেন। আর মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কুতুবপুর গ্রামের দিনমজুর দুলাল মিয়ার মেয়ে তানিশা মূলত ডিফেন্ডার।ফুটবল মাঠের যাত্রার পেছনের গল্পটা বলেন এই তিন ফুটবলার।
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় শিখার মা মারা যান। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সেই পরিবারে জায়গা পাননি তিনি। বাবা ভরণ-পোষণের খরচ দিলে দেখভালের দায়িত্ব নেন শিখার নানি।
পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময়ই ফুটবল নেশায় জড়ান শিখা। তারপর থেকে শুধু ওপরের দিকে চলা।
সেই পথটা সহজ ছিল না উল্লেখ করে শিখা বলেন, ‘তারপরও খেলেছি। নানির পুত্রসন্তান নেই। আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না থাকায় অতিকষ্টে তিনি আমাদের বড় করেছেন। ডিম বিক্রি করেও টাকা দিয়েছেন আর বাবা যতটুকু পেরেছেন খরচ যোগিয়েছেন।’
কঠিন সময় পেরিয়ে এসে বিশ্বসেরা প্রশিক্ষণ পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে শিখা। এমন সুযোগে আনন্দিত তার পুরো পরিবার।