
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে দলীয় মনোনীত প্রার্থী এডিএম শহিদুল ইসলামের নৌকার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমের ট্রাক মার্কার। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মি নিয়ে নৌকার কান্ডারী হয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন এডিএম শহিদুল ইসলাম। একই দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ট্রাক মার্কা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন সদ্য বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম। এদিকে স্বাধীনতার ৫৩বছরে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলগুলো এ আসনটিতে সবসময় শ্রীবরদী উপজেলার প্রার্থীকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। তাই ঝিনাইগাতী উপজেলার মানুষ এমপির স্বাদ উপভোগ করতে পারেনি। ঝিনাইগাতীর জনসাধারণ ভেবেছিলেন ৫৩বছরের রেকর্ড ভেঙে নেত্রী এবার এ উপজেলার প্রার্থী এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন। কিন্তু এ উপজেলার মানুষ এবারো দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নাইমকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার মানুষ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ঐক্যের সুরে নৌকা ছেড়ে ট্রাকের যাত্রী হওয়ায় তাদের সাথে তাল মিলিয়ে সাধারণ জনগণ ঝিনাইগাতীর মাটিতে এমপি বানানোর জন্য উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন।
আর,আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটের মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে মো; সিরাজুল ইসলাম ভোটের মাঠে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গামছা নিয়ে লড়ছেন মো; সুন্দর আলী, প্রকৌশলী মো; ইকবাল আহসান ঈগল মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও ওনার বাড়ী শ্রীবরদীতে।একই উপজেলার আরেক বিদ্রোহী নেতা মিজানুর রহমান রাজা উচ্চ আদালতে রায় পেয়ে কেটলী মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শ্রীবর্দীতে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২লাখ ৩৩হাজার ভোটার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা প্রার্থী হচ্ছেন ৪জন।
আর ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ১লাখ ৬৩হাজার ভোটার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা প্রার্থী ২জন, বিদ্রোহী প্রার্থী ও জাপা সমর্থিত প্রার্থীরা নিষ্ক্রিয়, মাঠে সরগরম চোখে পড়েনা।তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার মন্তব্য করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা।
ভোটারদের মুখে মুখে শুনা যাচ্ছে বার বার শ্রীবরদী উপজেলাতে এমপি নির্বাচিত হলেও এবার পরিবর্তনের সুর উঠেছে। স্বাধীনতার ৫৩বছরে ঝিনাইগাতীর মাটিতে এমপি না হওয়ায় এ উপজেলার মানুষ ঐক্যের ডাক দেয়। তাই এবার ঝিনাইগাতী উপজেলাতে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রধান বিরোধীদল কাগজে কলমে জাতীয় পার্টি হলেও মুলতঃ প্রধান রাজনৈতিক বিরোধীদল বিএনপি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করাতে সকল প্রার্থীগন বিএনপি সমর্থীত ভোটারদের সমর্থন আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।তবে একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী জানায় গত ১৫বছরে গায়েবী মামলা সহ অসংখ্য মামলা দিয়ে যে হয়রানির স্বীকার করেছে তার ক্ষতঃ এখনো
শুখায়নি। বিএনপির ভোট নৌকায় না যাওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকেই। অপরদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের বারবার নির্বাচিত সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম এর দ্বারা গত ২৫ বছরে কোন বিএনপির নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়নি বা কাউকে গায়েবি মামলায় জরায়নি। সে হিসেবে এবার ভোটের হাওয়াটা স্বতন্ত্র প্রার্থী নাঈম এর ট্রাক প্রতীকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।