কুড়িগ্রামে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ

47

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের মূলভবন বিক্রিসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা একরাম উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবী করেছেন।
জানা যায়, বিগত ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদ্রাসাটি কয়েক দফা নদী ভাঙনের পর সর্বশেষ রমনা এলাকা থেকে থানাহাট ইউনিয়নের সবুজপাড়ায় স্থানান্তরিত হয়। নিজ¯^ জমি দান করে মাদরাসাটি পূণ:প্রতিষ্ঠা করে জনৈক হাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নির্বাচিত হন। এসময় মাওলানা একরাম উদ্দিনকে মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পাবার পর ২০১৩ সালে সুকৌশলে জমিদাতা হাফিজুর রহমানকে সভাপতির পদ থেকে সড়িয়ে অধ্যক্ষ একরাম উদ্দিনের আপন মামা শশুর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতির পদ দেয়া হয়। এসময় মাদরাসার উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে জনশ্রæতি রয়েছে।
এদিকে মাদরাসার মূল টিনসেড বিল্ডিং ঘরটি নিলাম না করেই নিজ¯^ লোকজনের কাছে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছে। উক্ত মূল টিনসেড বিল্ডিংয়ে আনুমানিক ৪৫ হাজার ইট, ৯৫৭ কেজি এঙ্গেল, ৪৩২ কেজি রড, ৩৩০টি টিন, ১৫০টি মটকা, এঙ্গেল ও প্লেন সিট দ্বারা তৈরিকৃত ৮টি দরজা, ২৪টি জানালা নিলাম ছাড়াই স্বল্পমূল্যে বিক্রি করলেও কোন খরচের হিসাব দাখিল করেননি অধ্যক্ষ। এনিয়ে মাদরাসা শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সাথে অধ্যক্ষের দ্ব›দ্ব প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জবাবদিহি ছাড়াই প্রতিবছর মাদরাসার পুকুরটি লিজ দেওয়া হয়। বিক্রি করা হয় এর চারপাশের গাছপালা। ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, রেজাউল ও নুরুজ্জামান জানান, গত জানুয়ারি মাসে অধ্যক্ষ ২টি কাঁঠাল গাছ, ১টি মেহগনি ও ৬টি ইউক্লিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।
এদিকে সোমবার (২৮ ফেব্রæয়ারি) মাদরাসার গভর্ণিং বডির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কাকতলীয়ভাবে অধ্যক্ষ একরাম উদ্দিনের চাকরীর মেয়াদও ওই দিন শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৮ ফেব্রæয়ারি মাদরাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। এই অবস্থায় কাউকে কিছু না জানিয়ে অধ্যক্ষ একরাম উদ্দিন এককভাবে গভর্ণিং বডি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে গত রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্টাফ মিটিংয়ে বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। এই অবস্থায় গভার্ণিং কমিটি গঠনে ভোটার তালিকা প্রকাশ, নোটিশ করা, অভিভাবক সদস্য নির্বাচন, শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন না করায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আব্দুল মান্নান, বাবু ও জিল্লুর রহমান জানান, স্থানীয় প্রশাসনের নিকট প্রকাশ্য কমিটির গঠনের জন্য আবেদন করলেও তদের পক্ষ থেকে কোন সাড়া মেলেনি। উপজেলা সদরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসনিক কোন প্রকার নজরদারি না থাকায় অধ্যক্ষ নিশ্চিন্তে অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগের বিষয়ে চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদ্রারাসার অধ্যক্ষ একরাম উদ্দিন বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। সব ষড়যন্ত্রমূলক।
এ ব্যাপরে চিলমারী উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মো. তাহের আলী জানান, অধ্যক্ষ একরাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।