বদলগাছীতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিতে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ বন্ধে সাংবাদিক সম্মেলন

20

মোঃ ফারুক হোসেন, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ-
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের সাদিশপুর আনন্দমার্গ শিক্ষা, ত্রাণ ও জনকল্যাণ ট্রাস্টের নামীয় জমিতে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ বন্ধের জন্য ২৭/০২/২০২২ ইং তারিখে সাংবাদিক সংস্থা বদলগাছীর কার্যালয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারী আচার্য্য ব্রজেশ্বরানন্দ অবদুত সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে সাদিশপুর গ্রামের শিক্ষানুরাগী শ্রী প্রভাস চন্দ দাস আনন্দমার্গ শিক্ষা, ত্রান ও জনকল্যাণ ট্রাষ্টটি প্রতিষ্টা করেন।তিনি পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ১৭.২৬ একর জমি উক্ত ট্রাষ্টের নামে দান করেন। ঐ প্রতিষ্টানে বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক ও ৭৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
এছাড়াও ট্রাষ্টের অর্থায়নে প্রতি শুক্রবার এক জন চিকিৎসক এলাকার জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন সেবামুলক কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করেন। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসণ এর জন্য ৩য় পর্যায়ে উপজেলায় মোট ৪৬টি দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ বরাদ্দ আসে।
এর মধ্যে ওই ট্রাষ্টের নামীয় সাদিশপুর মৌজায় ২৮টি গৃহ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। মোট জমির পরিমাণ এক একর ১৫ শতাংশ। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ আলপনা ইয়াসমিন গৃহ নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
বিষয়টি জানান পর ট্রাষ্টের সভাপতি শ্রী সুশীল চন্দ্র মন্ডল ০৬/১/২০২২ইং তারিখে ইউএনও কাছে ট্রাষ্টের জমিতে গৃহ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য আবেদন করেন। এরপর নির্বাহী অফিসার আলপনা ইয়াসমিন কাগজ পত্র সহ সভাপতিকে তার কার্যালয়ে আসতে বলেন।
প্রেক্ষিতে সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ ইউএনও কার্যালয়ে তার সঙ্গে দেখা করে তাকে কাগজ পত্র দেখান ও মুখেও বলেন। নির্বাহী অফিসার আলপনা ইয়াসমিন কাগজ পত্র দেখে তাদেরকে বলেন জেলা প্রশাসকের আদেশে জমিগুলো খাস করা হয়েছে। তাই সেই জমিতে ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের পুনার্বাস করার জন্য ২৮টি গৃহ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে এবং ডিসির আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ না আনা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ কাজ চলবে।
তিনি আরও বলেন জমিগুলোতে আনন্দমার্গ শিক্ষা, ত্রাণ ও জনকল্যাণ ট্রাষ্ট নাই। তারা জাল দলিল তৈরী করে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্টানের জমি বলে দাবি করছে।
প্রেক্ষিতে ০৯/০২/২০২২ ইং তারিখে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসক নওগাঁ নিকট আবেদন করেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ।
সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারী আরোও বলেন, সাদিশপুর, উত্রাসন ও চকমোহনপুর মৌজার ১৭ একর ২৬ শতাংশ জমির মুল মালিক কৃঞ্চ কুমার দাস। তার দুই ছেলে শ্রী গিরিশ চন্দ দাস এবং শ্রী জ্যোতীশ চন্দ দাস। জ্যোতীশ চন্দ দাসের দু ছেলে শ্রী মনিন্দ্র নাথ দাস এবং শ্রী ফনিন্দ্র নাথ দাস তারা ৭১ সালে ভারতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।
জ্যোতীশ চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর গিরিশ চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী প্রভাশ চন্দ্র দাস উক্ত সম্পত্তির মালিক হন।। পৈত্রিক সুত্রে শ্রী প্রভাশ চন্দ দাস উল্লেখিত জমির মালিক এবং অবিবাহিত। প্রভাশ চন্দ দাস উক্ত ট্রাষ্টের নামে জমিগুলো দান করেন। তাই ধর্মীয় জমিতে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।