শ্রীনগরে উত্ত্যক্তকারী সম্রাটের আতংকে স্কুলছাত্রী গৃহবন্দী

47

মোস্তাকিম আহমেদ আলিফ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য এর ছেলে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা সম্রাট(২১) এর বিরুদ্ধে শ্রীনগর সরকারী এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিয়মিত উত্যাক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উত্যাক্তের প্রতিবাদ করায় ইভটিজার সম্রাট বাহিনীর হামলায় স্কুলছাত্রীর বড় ভাইসহ ৬জন আহত হয়েছে।গত শনিবার(২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রীনগর সদর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের দয়হাটা টেক্কামার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত সুজন,শাহজালালসহ অন্যান্য আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করলে আহত সুজনের অবস্থা আশংকা জনক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এব্যাপারে আহত সুজনের পিতা আলমগীর বাদী হয়ে মহিলা মেম্বারের ছেলে সম্রাটসহ ১০ জনকে বিবাদী করে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের ১,২ও ৩নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সুমি আক্তারের ছেলে সম্রাট (২১) দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী মরিচবাড়ী এলাকার দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে প্রাইভেটে যাতায়াতের পথে তার পড়নের বোরকা, গায়ের ওড়না টান দেয়া ছাড়াও তার গায়ে ঢিল ছুড়ে মারাসহ বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে উত্যাক্ত করে আসছিল। উত্যাক্তের বিষয়টি ঐ ছাত্রী তার বড় ভাই ইসমাইল(২২)কে জানালে ইসমাইল স্থানীয় লোকজন নিয়ে সম্রাটের মা মহিলা মেম্বারকে অবগত করলে এতে তারা কোন কর্ণপাত না করে উল্টো সম্রাটের ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে তার মা খাদিজা বেগম কে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মেয়েকে উত্যাক্ত করে না মর্মে একটি রেকডিং নিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়। ঘটনার দিন শনিবার সন্ধার দিকে ছাত্রী ভাই ইসমাইলসহ একই এলাকার আলমগীরের ছেলে সুজন(২২), শাহজালাল(২৬), দুলালের ছেলে মিলন(২২), আঃ রবের ছেলে শরিফুল(২৬), বাদলের ছেলে উজ্জল(২৩), সিরাজের ছেলে ফয়সাল(২৪) দের টেক্কামার্কেটে পেয়ে মহিলা মেম্বারের ছেলে সম্রাটের নেতৃত্বে মহিলা মেম্বারের স্বামী জামাল(৪৫)সহ দয়হাটা নয়াপাড়া এলাকার হায়দারের ছেলে শরিফুল(২৪),কাদিরের ছেলে আদিল(৩৫), আমির হোসেনের ছেলে আওলাদ(৩৫), মোশারফের ছেলে উজ্জল(৩৫), ইদ্রিসের ছেলে ইয়ামিন(২১), বুলবুলের ছেলে অনিক(২০), আওয়ামী নেতা সাঈদের ছেলে বাদল(২২), গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আকাশ(২১), দয়হাটা করবস্থান এলাকার রশিদের ছেলে সিফাত(২০), ইসরাফিলের ছেলে ইয়াছিন(২২)সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন হাতে দা,লাঠি লোহার রড, কাঠের ডাসা ইত্যাদি নিয়ে অর্তকিত তাদের উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে আহত করে। সম্রাটের লোহার রড দিয়ে সুজনকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আহতদের হাতে থাকা মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহতদের ডাক-চিৎকারে আশ পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আহতদের খুন জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা খাদিজা বেগম বলেন, মহিলা মেম্বারের ছেলে সম্রাট আমার মেয়েকে রাস্তা-ঘাটে উত্যাক্ত করে আসছে। এজন্য আমার মেয়ে স্কুলে যেতে না পেরে গৃহবন্দী হয়ে আছে। গত ৩ দিন পূর্বে সম্রাট তার লোকজন নিয়ে বাড়ীতে এসে হুমকি দিয়ে বলে, আপনার মেয়েকে আমি উত্যাক্ত করি না, এমন বক্তব্য দিবেন, না দিলে আমরা যেকোন সময় আপনার মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাব। আমি তাদের ভয়ে বলি তুমি আমার মেয়েকে উত্যাক্ত কর নাই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সম্রাটের মা নারী ইউপি সদস্য সুমি আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে পরে কি হইছে আমি জানিনা । শুনলাম টেক্কামাকেট্র্ মরিচবাড়ীর মাছ বিক্রেতা আমার ছেলেসহ দেবর আওলাদকে মারপিট করছে। এব্যাপারে মেম্বার সোহাগ মোড়ল তাদেরকে সহযোগীতা করতেছে। ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহাগ মোড়ল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি একটি বিচারে ছিলাম। ঐ সময় আমার নিকট একটি ফোন আসে, টেক্কামাকের্টে মারামারি লাগছে। তখন আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে থামিয়ে দেই এবং আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমার সহযোগীতায় মারামারি হয়েছে। মহিলা মেম্বারের এমন বক্তব্য সঠিক নয়। শ্রীনগর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এখন ঘটনাস্থলে আছি এসে আপনার সাথে কথা বলবো।