সিনিয়র-জুনিয়র গ্রুপের দ্বন্দ্বে নিহত জাহিদ

34

মো.দীন ইসলাম,ঢাকা

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র গ্রুপের দ্বন্দ্বে নিহত জাহিদ হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো.মোজাম্মেল হক।

এসময় তিনি জানান,এরআগে গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে র‌্যাব-৪ রাজধানীর পল্লবী,নারায়নগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া অভিযান করে হত্যার রহস্য উদঘাটনপূর্বক এদের গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মো.ইফরান ওরফে ডামরু (২৪), মো. ডলার হোসেন ওরফে ডলার (২৫),মো.রাজা হোসেন (২২) ও মো.কোরবান (২৫)।

তিনি বলেন,গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে পল্লবী থানা কাঁচা বাজার পেঁয়াজ পট্টি এলাকায় একটি নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। ওই হত্যাকান্ডে নিহত জাহিদ হাসান এর বাবা হানিফ খাঁন বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে র‌্যাব-৪ রাজধানীর পল্লবী, নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটনপূর্বক তাদের গ্রেফতার করে।

মোজাম্মেল হক বলেন,ভিকটিম জাহিদ হাসান পল্লবী থানার বেনারশী পট্টিতে স্বপরিবারে বসবাস করত। সে মূলত পেশায় একজন বাস চালক ছিল,তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে যানবাহন চলাচল সীমিত হওয়ায় পেশা পরিবর্তন করে মাছ ব্যবসা শুরু করে। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগন জানায়,নিহত জাহিদ ও তারা একই এলাকার বাসিন্দা। এলাকাটি ননবাঙ্গালী বিহারী ক্যাম্প (জল্লা ক্যাম্প,মুসলিম ক্যাম্প ও মিল্লাত ক্যাম্প) এর আওতাধীন। ওই এলাকায় মাদকের অপব্যবহারসহ গ্যাং কালচারের প্রবণতা রয়েছে। ওই এলাকায় সিনিয়র গ্রুপ ও জুনিয়র গ্রুপ নামে দুইটি গ্রুপ রয়েছে যারা এলাকায় চুরি-ছিনতাই,চাঁদাবাজিসহ মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায় লিপ্ত থাকে। ওই গ্রুপ দুইটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সার্বক্ষণিক দাঙ্গা হাঙ্গামায় লিপ্ত থাকে।

নিহত জাহিদ জুনিয়র গ্রুপের অর্ন্তভুক্ত ছিল এবং গ্রেফতারকৃত আসামীগন সিনিয়র গ্রুপের সদস্য। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় প্রথমে জুনিয়র গ্রুপ সিনিয়র গ্রুপের ইমরান আলীর সাথে মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হলে জুনিয়র গ্রুপের ৫/৬ জন সদস্য ইমরান আলীকে চর-থাপ্পর মারে। ওই খবরটি জানতে পেরে সিনিয়র গ্রুপের প্রধান মো.ইফরান ওরফে ডামরু ও মো.ডলার হোসেন ওরফে ডলারের নেতৃত্বে একই দিন রাত ১০টায় সিনিয়র গ্রুপের ১৫/১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (ছুরি,সুইস গিয়ার,হকি স্টিক,এসএস পাইপ,লোহার রড) নিয়ে কাঁচা বাজার পেঁয়াজ পট্টি এলাকায় অবস্থানরত জুনিয়র গ্রুপের ৫/৬ জনের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে।

সেসময় ওই মামলার এজাহারনামীয় আসামী মিঠুন, কামরান,ডলার,রাজা ও কোরবানসহ আরও কয়েকজন হকি স্টিক,এসএস পাইপ এবং রড দিয়ে ভিকটিম জাহিদসহ অন্যান্যদের উপর আক্রমণ করে। মিঠুন,ডলার ও কামরানের এলোপাতাড়ি আঘাতে ভিকটিম জাহিদ ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে মামলার প্রধান আসামী মো. ইফরান ওরফে ডামরু তার হাতে থাকা ধারাল সুইস গিয়ার (চাকু) দিয়ে ভিকটিমের পেটে ছুরিকাঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং নারীভুড়ি বের হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

ঘটনাস্থলে ভিকটিম জাহিদ ছাড়াও জুনিয়র গ্রুপের সদস্য মো.কামরান (২২) এবং হাসান (২৩) গুরুতর আহত হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিম জাহিদসহ আহতদেরকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে ভিকটিম জাহিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা সকলেই উক্ত হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করে বলে জানান মোজাম্মেল।