মিরসরাইয়ে নানা অভিযোগে আরশিনগর ফিউচার পার্কের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মানববন্ধন

24

মিরসরাই প্রতিনিধি:

মিরসরাইয়ে রেলওয়ে ও সওজের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আরশিনগর ফিউচার পার্ক উচ্ছেদ করতে এবার রাজপথে নেমেছে স্থানীয় ক্ষুদ্ধ জনতা। শুক্রবার (২৫ ফেব্রæয়ারি) বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাপাহাড় এলাকায় পার্কের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে অংশ নেয় এলাকার নানা শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষ। এর আগে ২০২১ সালের ৫ জুন সরকারি জমি ও টিলা কেটে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন দিদার এ পার্কটি নির্মাণ করলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশকিছু পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেসময় সরকারের সড়ক ও জনপদ বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল একাধিকবার পার্ক কর্তৃপক্ষকে নোটিশ করলেও পরবর্তীতে পার্কটি উচ্ছেদে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে শুক্রবারে অনুষ্ঠিত জনতার মানববন্ধনে পার্কটির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল ছাড়াও আরো বেশকিছু অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে টিলা কেটে সরকারি জমিতে পার্ক নির্মাণ করেছে। সরকার এতে কিছুই বলেনি। বর্তমানে যতরকম বেহাল্লাপনা আছে রাতদিন পার্কের ভেতর সবকিছু করা হচ্ছে। রাতের বেলায় অসামাজিক কার্যকলাপ প্রথমে গোপনে করলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে করছে।’
স্থানীয় সোনাপাহাড় গ্রামের আছমা আক্তার অভিযোগ করেন, মধ্যরাতেও পার্কের ভেতর প্রচন্ড শব্দে সাউন্ড বক্স লাগিয়ে নাচগান করা হয়। ঘরের বাচ্চা কাচ্চারাও ঘুমাতে পারে না। সন্ধ্যার পর তাদের পড়াশোনা করতেও অসুবিধা হয়। পার্কের মালিক দিদারকে আমরা এই বিষয়ে অভিযোগ জানালে উল্টো আমাদেরকে সে ধমক দেয়।’
স্থানীয় বিশ^রোড নূরানী জামে মসজিদের মুসল্লি জামাল উদ্দিন ও আবুল খায়ের বলেন, ‘পার্কের গান-নাচের শব্দের জন্য মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করাও মুশকিল হয়ে গেছে। পার্কের মালিককে এসব বিষয়ে কয়েকবার আমরা গ্রামবাসী অভিযোগ করেছি। সে কোন কর্ণপাত করেনি।’
স্থানীয় জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর হোসেন জানান, আজকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন আয়োজন করেছি। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানাবো।
এসব বিষয়ে কথা বলতে আরশিনগর ফিউচার পার্কের মালিক নাছির উদ্দিন দিদারকে ফোন দিলে তাঁর গাড়ির ড্রাইভার ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘স্যার ব্যস্ত আছেন’।
পরে পার্কের ব্যবস্থাপক যুবরাজ সূত্রধরকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘পার্কের ভেতর কোনরকম অসামাজিক কাজকর্ম হয় না। অবৈধ জমিতে পার্ক নির্মাণে বিষয়টিও সঠিক নয়। নামাজের সময় সাউন্ড বন্ধ রাখা হয়। মধ্যরাতে কোন গান বাজনা হয় না।’