ঘোড়াঘাটে আলুর বাম্পার ফলন হলেও দামে হতাশ চাষীরা

34

ঘোড়াঘাট(দিনাজপুর) থেকে মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আলুর বাম্পার ফলন হলেও আলুর বাজারে ধ্বস নামায় হতাশ হয়ে পড়েছেন আলু চাষীরা। বাজারে দাম না থাকায় লোকশান গুনছে তারা। গত বছর অধিক দামে আলু বিক্রি করে লাভবান হয়ে এবার ঘোড়াঘাট উপজেলার কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে দ্বিগুণ আলু চাষ করেন। কিš‘ আলুর ফলন গত মৌসুমের চেয়ে ভালো হলেও দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। চাষাবাদে খরচ বৃদ্ধি পেলেও মাঠে কিংবা হাটে মিলছে না কাঙ্খিত দাম। আলুর বাজারে দামে ধস নামায় চাষিদের মুখে হাসি নেই।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আলু উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২৪ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতক) চাষিরা দাম পা”েছন ৯০ হাজার -১ লক্ষ টাকা। আর প্রতি হেক্টর আলুর উৎপাদন খরচ হয় প্রায় দুই লাখ টাকা। গত বছর এ উপজেলায় ১ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আর উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৯০ মেট্রিক টন। এবার আলু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৪০০ মেট্রিক টন।কৃষি বিভাগ বলছে- গত বছরের কিছু আলু মজুদ থাকায় বাজার দর কম। পুরাতন আলু শেষ হলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
বর্তমান সময়ে গ্র্যানোলা,সাদা পাকড়ী,এস্টারিক্স,বট পাকড়ী, লাল পাকড়ী,রোমানা,কার্ডিনাল ও বার্মা জাতের লাল আলু পাওয়া যায়।স্থানীয় বাজারে লাল আলুর চাহিদা বেশি থাকায় লাল আলুর দাম কিছুটা বেশি। আর সাদা আলুর বাজার রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় চাষ হওয়ার কারণে অন্য জেলার চাহিদার উপর নির্ভর করে দাম পায় চাষিরা। বর্তমানে সাদা আলু ৬-১০ টাকা ও লাল আলু ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি ্অধিদপ্তর সুত্র জানান, দিনাপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মাটি আলু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। দিনাজপরের পরেই আলু চাষে ঘোড়াঘাটের অবস্থান। প্রতি বছরই এ উপজেলায় আলু চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার বাইরে সরবরাহ করা হয় এখানকার আলু। সাধারণত মাটিতে এক বার আলু রোপণ করলে এক বার ফলন পাওয়া গেলেও এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। চাষিরা এবার দুই বার আলু রোপণ করে ফলন পাচ্ছেন মাত্র একবার। সে কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে চাষিদের। তাছাড়া বাজার অবস্থা ভালো না থাকায় লোকশানে পড়েছেন চাষিরা। আগাম আলু রোপণের কয়েকদিন পরেই বৃষ্টি হয়, তাই রোপণকৃত আলু মাঠেই পঁচে যায়। আবারও লাভের আশায় সেই জমিতে আলু রোপণ করেন চাষিরা।
উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার আলু চাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি ছিল, ফলে কম ফলনেও ভালো লাভ হয়েছিলো। এবার বেশি ফলনেও লোকশান হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, আসলও তুলতে পারছি না । কম দামে আলু বিক্রি করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তার পরেও নগদ টাকার ক্রেতা নেই।
ইসলাম বলেন, ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে ্অনেক। ১০ টাকা দরে আলু বিক্রি করে সে হিসেবে দাম পাচ্ছিনা । এই বাজার মুল্যে আলু বিক্রি করে লাভ দুরের কথা, আসল টাকাও উঠছেনা। ধার দেনা করে আলু চাষ করে করেছি।
উপজেলার রাণীগঞ্জ হাটে আলু বিক্রি করতে আসা উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ভর্নাপাড়া,সাতপাড়া,গোবিন্দপুর,ভেলামারি, বুলাকীপুর ইউনিয়নের জয়রামপুর ও কৃঞ্রামুপুর আশে পাশের এলাকার আলু চাষিরা বলেন,জমিতে আলু লাগানোর কয়েকদিন পরে বৃষ্টির কারণে বীজ আলু মাটিতেই পঁচে যায়। আবারও সেই জমিতে আলু লাগাই। আলুর ফলন ভালো হয়েছে।খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রকার ভেদে ১০-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারণ এই দামে বিক্রি করে অনেক টাকা লোকশান হচ্ছে।
উপজেলার রাণীগঞ্জ হাটে আলু ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জেলার আলু এক সঙ্গে বাজারে আসায় চাহিদা কিছুটা কম। রাজধানীর আড়ৎ থেকে কোনো চাহিদা পাচ্ছি না। সে কারণে বাজারে দাম নেই। অনেক আলু বেশি দামে কেনা আছে, কিন্তু দাম কমে যাওয়ার কারণে বিক্রি করতে পারছি না। তাই আলু কিনছিনা। নি¤œগামী বাজারে আলু কিনলে লোকশান হবে।গত বছরের বাড়তি আলুর মজুদ শেষ হলে বাজার অবস্থা ঠিক হবে ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এখলাস হোসেন সরকার বলেন, এখন কৃষকরা আলু তুলছেন। এবার আলুর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে দাম কম পাচ্ছেন কৃষকরা। খুচরা বাজারে আলুর যে দাম পাইকারি বাজারে তার থেকেও অনেক কম। কৃষি অধিদপ্তর মনে করছে, এই আলু যদি যারা আগে আলু উত্তোলন করেছেন, তারা দাম মোটামুটি ভালো পেয়েছেন। তবে সামনে দাম কিছুটা বাড়লে চাষিদের লোকসানে পড়তে হবে না। চাষিদের যেকোনো পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের উৎপাদিত আলু অন্য দেশে রপ্তানি করতে পারলে দেশের অর্থনীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি চাষিদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।