রামগড়ে মৎস্য হ্যাচারী বিলুপ্তির দারপ্রান্তে

10

নুরুল আলম,খাগড়াছড়ি:: খাগড়াছড়ির রামগড়ে মৎস্য পোনা ও রেনু উৎপাদন কারী বহু পুরনো একটি হ্যাচারী বিলুপ্তির দারপ্রান্তে রয়েছে। এটি রামগড় মিনি মৎস্য হ্যাচারী নামে এক নামে পরিচিত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য চাষ উন্নয়নও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি হ্যাচারীতে মৎস্য রেনু/ পোনা উৎপাদিত হয় এই রেনু/পোনা তিন পার্বত্য জেলার বিশাল জন গোষ্টির জন্য মৎস্য চাহিদা পুরনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে । রামগড়ে মৎস হ্যাচারী স্থাপিত হয় ১৯৭৯ সালে। দীর্ঘ বছর বিভিন্ন মেয়াদি প্রকল্পের মাধ্যমে চলে আসছিলো এটি।
২০১৩ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাঙামাটি মৎস্য বিভাগ পাহাড়ি প্রকল্পের অধিনে থাকার পর ৩০ শে জুন ২০১৮ হ্যাচারীটি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের অধিনে নিয়ে আসা হয়। গত চার বছরে রামগড় মৎস্য হ্যাচারীর করুন পরিনিতি দেখা দেয়। উল্লেখ্য,
উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক আরো একটি হ্যাচারী স্থাপনের আবেদন করেন সেটি বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদরে স্থাপিত হয়েছে, এবং ঐ হ্যাচারীতেও রেনু উৎপাদন শুরু হয়েছে। , এদিকে
রামগড় মৎস্য হ্যাচারীর কর্মচারী নাসির উদ্দীন বলেন, অত্যান্ত দুঃখের বিষয় যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী প্রকল্পের জন্য দীর্ঘ সময় উৎপাদন থমকে গেছে, আমরা লক্ষ করছি, জেলার ক্ষুদ্র চাষিরা রেনু/পোনার জন্য হিমসিম খেতে হয়। গুনগত মানের রেনু পোনা না পেয়ে বহু মৎস্য চাষি মুখ পিরিয়ে নিচ্ছেন।
পার্বত্য অঞ্চলের চলমান প্রকল্প ৩০ শে জুন২০১৮ ইং মেয়াদ কাল শেষ হয়েছে ৪ বছর আগে সেই থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে এটি, স্থবির হয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ পোনা উৎপাদন। অনিচ্ছয়তার মাঝে পড়ে আছে এই হ্যাচারী। অপরদিকে উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকা দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। প্রশ্নের মুখে পড়েছে এটি, কেন এমন অবহেলিত হয়ে গেছে সরকারী কোটি কোটি টাকার এই সম্পদ??
কিছু সমস্যা ঃ পাহাড়ে শীতকাল এমনিতে পানির অভাব পুকুরে পানি নাই পাম্প দিয়ে পুকুরে পানি দিতে হয়। এতিমধ্যে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বর্তমানে বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া হয়েছে। মা মাছের খাদ্য সংকটের কারণে মরে যাচ্ছে অনেক মা মাছ।
ফলে আগামী মৌসুমে প্রজননের মা মাছ সংকেট দেখা দিয়েছে। নাসির উদ্দীন আরো বলেন, বর্তমানে অত্র হ্যাচারীতে আমরা দুইজন কর্মচারী অনাহারে অধ্যাহারে দিন কাটাচ্ছি, সামান্য বিলের অজুহাতে সরকারি এমন উৎপাদনে বাধা ও কর্মচারীদের ঘর বন্দী অবস্থায় রেখেছেন রামগড় বিদ্যুৎ প্রকৌশলী। বিষয়টি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে, সব কিছু বিবেচনা করে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।