শিক্ষার্থীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৬

28

মো.দীন ইসলাম,ঢাকা

গোপালগঞ্জ সদরে রাস্তা থেকে তুলে
স্থানীয় একটি ভবনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার(২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

এরআগে গতকাল(২৫ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদীর গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬),প্রদীপ বিশ্বাস (২৪),মো.নাহিদ রায়হান (২৪), মো.হেলাল (২৪) এবং তূর্য মোহন্ত (২৬)।

মঈন বলেন,কিছুদিন আগে গোপালগঞ্জের স্থানীয় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ন্যাক্কারজনকভাবে গণধর্ষণের শিকার হন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ভূক্তভোগীসহ দুই শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে মেসে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে তাদের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে যায়।

তারা একপর্যায়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ভবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে জানায় কমান্ডার মঈন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। সারাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে ওই পৈশাচিক ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ জানায়।

ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর র‌্যাব চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায়,র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ২৫ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত গণধর্ষণের সাথে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা গণধর্ষণের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে বলে জানান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি আরও বলেন,গ্রেফতারকৃতরা মূলত রাকিবের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি অপরাধ চক্রের সদস্য। তারা সকলেই গোপালগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃত তূর্য মোহন্ত ব্যতীত তারা প্রায় ৮/১০ বছর যাবত নবীনবাগ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন, আড্ডা,জুয়াসহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে লিপ্ত ছিল। এছাড়া তারা চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধেও জড়িত ছিল। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে স্কুল/কলেজের ছাত্রীদের উত্যক্ত করত বলে জানা যায়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে,গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেফতারকৃতরা ইজিবাইক দিয়ে নবীনবাগ হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার পথে ভূক্তভোগীকে তার বন্ধুসহ দেখে ইজিবাইক থামিয়ে তাদেরকে নাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করে এবং বিভিন্ন ধরণের অশালীন মন্তব্য করতে থাকে। তাদের সাথে ভিকটিম এবং তার বন্ধুর বাকবিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে জোরপূর্বক ঘটনাস্থলের পাশে ঢালু জায়গায় নিয়ে যেতে চাইলে ভূক্তভোগীর বন্ধু বাধা দেয়ায় গ্রেফতারকৃতরা তাকে মারধর করে।

গ্রেফতারকৃতরা ভিকটিমকে স্থানীয় একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। মূলত পাশবিক প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই ওই ন্যাক্কারজনক ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তারা স্বীকার করে তারা।