ধর্ষকদের শাস্তি ও উপাচার্য-শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

24

মাহবুবুল ইসলাম মানিক, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীর ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবিতে এবং আন্দোলনরত উপাচার্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয়দের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন। শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় মিডিয়া কাভারেজ করতে বেশ কিছু টিভি চ্যানেল, অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকার সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলো।গত বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বন্ধুর সাথে হেঁটে মেসে ফেরার পথে ৭/৮ জন দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়। রাতেই পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার সকালে সকল ধর্ষককে চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিকেলে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা আক্তার, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে ফিরে যায়। কিছু পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয়রা হামলা চালায়। এতে আহত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়াও, এই হামলায় আহত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড একিউএম মাহবুব ও প্রক্টর ড মোঃ রাজিউর রহমান সহ অন্যান্য শিক্ষক। ভাঙচুর করা হয় উপাচার্য ও প্রক্টরের গাড়ি। প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা। দাবিগুলো হলো,
১. ধর্ষকের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার, সনাক্ত করে নাম প্রকাশ করে অতিদ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড/ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
২. ধর্ষকের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভিসির উপর ন্যাক্কারজনক হামলায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৩. ধর্ষনের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভিসিকে শিবির বলে হামলায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি/ভিডিও কন্ফারেন্সে অবগত করতে হবে।
৪. ১০০% নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় বিচার না পেলে একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে ইস্তফা দিয়ে চলেন যাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান।