আত্রাইয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

31

মোঃ ফিরোজ আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার:

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিও) মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) বুধবার নওগাঁ থেকে আসা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিনা কারণে শিক্ষকদের হয়রানি, বিদ্যালয় চলাকালীন বা ছুটির দিন বিভিন্ন কাজের কথা বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অফিসের না ডেকে মহিলা শিক্ষকদের ডেকে খোশগল্প করেন।

তিনি কোন সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণে না গিয়েও শতভাগ উপস্থিতি দেখিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সহ উপকরণ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে তাকে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে লাঞ্চিত পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা করার ভয় দেখান।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের বিভিন্ন কারণে অকারণে শোকজ লেটার দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি ও মেরে ফেলার উপক্রম করেন তিনি।

শুটকি গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইদুর রহমানের কাছে থেকে উপবৃত্তির চাহিদার কাগজ জমা দানে দেরি হওয়ায়, তাকে বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকি দেওয়ার কারনে প্রধান শিক্ষক হার্ট অ্যাটাকে মারা যান বলে জানান অনেক শিক্ষকরা।

গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ সালে মোঃ হাফিজুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কার্যকলাপের লিখিত অভিযোগ করেছিল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষকগণ।

এ বিষয়ে মোঃ অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আমি সব কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিয়ে এসেছি।

আত্রাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন মিঠু বলনে এটিও হাফিজ আত্রাই উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা নির্যাতিত হচ্ছে। সকল শিক্ষকদের পক্ষে থেকে তার বদলী ও বিচারের দাবী যানাচ্ছি।
আত্রাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সায়েদুল ইসলাম সরকার বলেন দীর্ঘ ৮ বছর ধরে আত্রাই চাকুরী করার কারনে এটিও হাফিজুর রহমান শিক্ষকদের বিভিন্ন হয়রানী করেন তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই শিক্ষকদের শোকজ লিটার ধরিয়ে দেন এবং বিভাগীয় মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখান।

তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী ন‌ওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, আমি তদন্তভার পাওয়ার পর আমি অভিযোগকারী শিক্ষকদের ডেকে তাদের কথা শুনেছি এবং অভিযোগের প্রমাণাদি কাগজপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধিক গুরত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখবে বলে আমি আশা করছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।