বিজিবিতে চাকরি দেয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি!

28

নিজস্ব নিজস্ব,ঢাকা

সেনাবাহিনী ও বিজিবিতে চাকরি নিয়ে দেয়ার নামে কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি। এ চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কাওরান বাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেন।

এরআগে গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে র‍্যাব-১ গােপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপি,ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মাে.সামসুজ্জোহা ওরফে জুয়েল (৪০),মাে.শামীম হাসান
তালুকদার (৩৮) ও মাে.আলমগীর হােসেন (৪০)। এসময় তাদের থেকে ১টি ভূয়া সেনাবাহিনীর পরিচয়পত্র, ২ টি ভূয়া বিজিবি’র পরিচয়পত্র,৩ টি ভূয়া নিয়ােগপত্র, ১৬ পাতা ব্যাংক স্টেটমেন্ট,১ টি ব্যাংক চেক ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৬ টি মােবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানান মোমেন।

আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন,প্রতারক দলের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরীহ বেকার যুবকদের টার্গেট করত।এবং অভিনব কায়দায় তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে।

র‍্যাব-১ এর আভিযানিক দল দীর্ঘ দিন যাবৎ এ চক্রকে গ্রেফতারের জন্য সকল ধরনের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানান তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গােপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপি,ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন,বিগত কয়েক বছর যাবৎ গ্রেফতারকৃত আসামী সামসুজ্জোহা ওরফে জুয়েল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাকরি প্রত্যাশী ও তাদের পরিবারের সাথে সুকৌশলে পরিচিত হয় এবং ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামী তার পরিচিত কয়েকজন উধ্বর্তন সেনা কর্মকর্তার মাধ্যমে সেনাবাহিনী/বিজিবিতে চাকরি দিতে পারবে বলে জানায়।

ভিকটিমদের সরলতার সুযােগ নিয়ে তাদেরকে সেনাবাহিনী/বিজিবিতে বেসামরিক বিভিন্ন পদে চাকরী দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে বিশ্বাস অর্জন করে এবং একপর্যায়ে সেনাবাহিনী/বিজিবিতে বেসামরিক পদে চাকরীর জন্য আসামী ভিকটিমদের ৫/৭ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানায়।

ভিকটিম ও ভিকটিমের পরিবার তার কথায় সরল বিশ্বাসে ৫/৭ লক্ষ টাকা দিতে রাজি হয়।

অতঃপর ভিকটিমদেরকে তাদের গ্রামের বাড়ি হতে মেডিকেল চেকআপ করার কথা বলে আসামী সেনাকর্মকর্তার
পিএ পরিচয় প্রদানকারী প্রতারক মাে.আলমগীর হােসেন এর মাধ্যমে অপর আসামী উধ্বতন সেনা কর্মকর্তা (লে.
কর্নেল) পরিচয়দানকারী প্রতারক মাে. শামীম হাসান তালুকদারের সাথে সাক্ষাৎ করানাের জন্য ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন
বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে আসামীরা ভিকটিমকে একটি ভূয়া নিয়ােগপত্র দেয়, যাতে
সেনাবাহিনী/বিজিবি’র মনােগ্রাম সম্বলিত বেসামরিক পদে চাকরীর নিয়ােগপত্র শিরােনাম মুদ্রিত থাকে। নিয়ােগপত্রে
ভিকটিমের নাম-ঠিকানা, স্বাক্ষরসহ নিয়ােগপত্রের পেছনে আঙ্গুলের ছাপ নেয় এবং কাউকে কিছু না বলে ভিকটিমদেরকে চুপচাপ বাড়ি চলে যেতে বলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,মাে.সামসুজ্জোহা ওরফে জুয়েল এই চক্রের মূল হােতা। প্রাপ্ত তথ্যমতে তার নামে
ইতােপূর্বে অস্ত্র আইন,নারী নির্যাতন,প্রতারণা ও মাদকসহ মােট ৮টি মামলা রয়েছে। সে বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী।

২০১৫ সালের দিকে চক্রের অপর দুই সদস্যের সাথে তার পরিচয় হয়। প্রতারক আলমগীর ও প্রতারক শামীম
দুইজনই কম্পিউটার প্রিন্ট,ফটোকপি,অনলাইন জব এপি-কেশনের দোকান এর মালিক। তাদের দোকানে অনলাইনে চাকুরির জন্য আবেদন করতে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমেই তারা বিভিন্ন বাহিনী/সরকারি চাকুরির নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য সংগ্রহ করত।

সেখান থেকে প্রাপ্ত চাকুরী প্রার্থীদেরকেই তারা প্রাথমিকভাবে টার্গেট করত বলে জানান মোমেন।

প্রতারক মাে.শামসুজ্জোহা শুরু থেকেই নিজেকে বিজিবি’র সদস্য (হাবিলদার মেডিঃ এসিস্ট্যান্ট) হিসাবে ভুয়া পরিচয় প্রদান করে আসছিল। ফলে,
অনেকেই তার সাথে চাকুরী পাবার আশায় যােগাযােগ করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

মোমেন বলেন,মূলত এই চক্রটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের লােকজনকে বাহিনীতে চাকুরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে টার্গেট করত।