তিন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি-এসপির কাছে জেলা আলীগের স্মারকলিপি

20

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বেফাঁস বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। বুধবার (২৩ ফেব্রæয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।
স্মারকলিপি দেওয়া শেষে নারায়ণঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে আমরা সেটা সহ্য করবো না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা ডিসি এসপিকে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নিবো। স্মারকলিপি দেওয়া শেষে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাবেন বলে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের জানান। পাশাপাশি যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা করার জন্য পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের আহবান করেন।এসময় জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ওই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবেন বলে সাংবাদিকদের কাছে আশ্বস্ত করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল বারদীর একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে বেফাঁস বক্তব্য দিয়েছে। তার এই অশালীন বক্তব্য ইতোমধ্যে সারাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুলকে সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওমীলীগ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ বরাবর চিঠি দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মনে করে যারা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতাকে মানে না তাদের বিরুদ্ধে অতিসত্ত¡র আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল ছাড়াও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বলেছেন ‘আমি শেখ হাসিনাকে চিনি না, শেখ মুজিবুর রহমানকে চিনি না’ তার এই বেফাঁস বক্তব্যের কারণে ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মনে করে এই বর্ণচোরা স্বাধীন তারোধী দেলোয়ার হোসেন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মনে করে, সংবিধান লক্সঘনের অপরাধে আইন শৃক্সখলা বাহিনী অতিসত্ত¡র তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন ‘আমি নৌকার প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করলে অনেক বেশি ভোটে নির্বাচিত হতাম।’ এই বক্তব্য স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার প্রতি অবজ্ঞা। এই ৩ চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতা কর্মীদের ভিতরে রক্তাক্ত শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দাবী, বেফাঁস বক্তব্যের কারণে এ (তিন) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, আব্দুল কাদির, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মহানগর কৃষকলীগের যুগ্ন আহবায়ক শফিকুল ইসলাম লিটন, আনোয়ার হোসেন, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ দিপু প্রমুখ।