চুয়াডাঙ্গায় বেড়ে চলেছে আত্মহত্যা ও হত্যার ঘটনা

23

মোঃতারিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ঃচুয়াডাঙ্গায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা। বেশিরভাগ সময় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটছে এসব ঘটনা। তবে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করতে সক্ষম হচ্ছে পুলিশ। আর আত্মহত্যার জন্য সামাজিক, পারিবারিক, দাম্পত্য কলহ ও প্রেমঘটিত কারণগুলোই বেশি দায়ী। এছাড়া পাত্র পছন্দ না হওয়ার কারণেও ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। সোমবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) সকালে দর্শনা থানাধীন পরাণপুর গ্রামের মাঠের পৃথক স্থান থেকে দুই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা দুজনই নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে নিহত শওকত আলী ওরফে সকো (৬২) গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি দর্শনার সড়াবাড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। তার লাশের পাশ থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়। নিহত অপর ব্যক্তি হলেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ (৫৬)। তিনি পরাণপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার গোলাম জোয়ার্দ্দারের ছেলে। নিহত হাফিজের লাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় দর্শনা থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয় একটি ধারালো হাসুয়া।

সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহিদ নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের হাতে খুন হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (৮)। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় আসামি জাহিদকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করে পুলিশ। সদর উপজেলার তালতলা গ্রামে উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই বছর আগে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনার জের ধরে গত ১৯শে জানুয়ারি নির্মম হত্যার শিকার হয় ভি,জে, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আবু হুরাইরা (১০)। পুলিশের বিচক্ষণতায় এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ট্যাংরামারী রেললাইনের পাশ থেকে হাত-মুখ বাঁধা, রক্তাক্ত অবস্থায় আনুমানিক ৪৫ বছর বয়স্ক অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে জিআরপি।

২২শে জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের বেনীপুর বাওড়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন বাদল গোলদার (৩৭) নামে ওই বাওড়ের এক পাহারাদার। তিনি একই ইউনিয়নের গঙ্গাদাসপুর গ্রামের রেজাউল গোলদারের ছেলে। তবে পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৮শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতে দর্শনা থানাধীন নাস্তিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হয় রইস উদ্দিনের ছেলে বিজিবির সোর্স হযরত আলী (৫৫)। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এদিকে হত্যার পাশাপাশি জেলায় বেড়ে চলেছে আত্মহত্যার ঘটনা। ২০শে ফেব্রুয়ারি সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন মনসেদ আলীর ছেলে রুহুল আমিনের স্ত্রী আফরিনা খাতুন (১৯)। এছাড়া গত ২৯শে জানুয়ারি সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার বড়শলুয়া গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার জাহাঙ্গীর মণ্ডলের মেয়ে রজনী খাতুন বিয়ের ৯ দিনের মাথায় বিষপান করে আত্মহত্যা করে। এছাড়া এমন আত্মহত্যার ঘটনা আরও রয়েছে।