সাতক্ষীরায় ১ সন্তানের জননীকে ধর্ষন:গ্রেফতার-৩

15

আব্দুর রহিম,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার ভোমরায় পরকীয়ার মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১ সন্তানের জননী কে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষনের চিত্র মোবাইলে ধারন করে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ধর্ষনের ৪ বন্ধু মিলে ওই গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করে। মামলা নং- ৪৩। পুলিশ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিতা গৃহবধুর প্রথম স্বামী নিয়ে ঘর সংসার করছিল। তাদের ঘরে ১০ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ধর্ষিতা ভোমরার বিভিন্ন পেয়াজের আড়তে শ্রমিকের কাজ করতো। সেই সুবাদে লহ্মীদাড়ী গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আফজাল হোসেন(৩০) এর সাথে পরিচয় হয়।
পরিচয় সূত্রে পরোকিয়া জড়িয়ে পড়ে ধর্ষিতা গৃহবধু। এক পর্যায়ে আফজাল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখালে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেয় গৃহবধু। এরপর আফজাল তাকে ভোমরার বাবু মার্কেটের পাশে ঘরভাড়া নিয়ে ধর্ষিতা ওই গৃহবধুকে রাখে। আফজাল তাকে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষন করার সময় তার মোবাইলে গৃহবধুর অশ্লীল ছবি ধারন করে।
আফজালের বন্ধু লহ্মাদাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মো: রায়হান (২৫) একই গ্রামের শহীদুল ইসলামের পুত্র মো: মাসুদ(২৫), আবু সাঈদের পুত্র মো: আলম(৩৫) ও মৃত ফজর মাস্টারের পুত্র আশিক(৪০) এদের ওই অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ দেয়। আফজালের বন্ধুরা ভিডিওতে ধারণকৃত অশ্লীল ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষন করে।
ওই গৃহবধু জানায় আফজালসহ তার ৪ বন্ধু সকলেই ইয়াবাতে আসক্ত এবং সকলেই ইয়াবা ব্যবসায়ী। এঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধু সাতক্ষীরা সদর থানায় এসে ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৪৩, তাং- ১৪/০২/২০২২।(ধারা ৯(১)৩০-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩: তৎসহ ৮ (১)/(২)- ৮(৩)২০১২ সালের পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন: পরস্পর যোগসাজসে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে অশ্লীল ডিভিও ধারন করত: প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অপরাধ)। পুলিশ ধর্ষক মো: রায়হান ও মো: আলমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।অপর আসামী মো: মাসুদ ২০ ফেব্রুয়ারী আদালতে আত্মসমর্পন করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আসাদুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে ধর্ষিতা গৃহবধু জানায় মামলার করার পর থেকে আসামীরা ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে মোবাইলে। জীবনের ভয়ে সন্তান নিয়ে ওই ধর্ষিতা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।