
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
আর মাত্র ১৫দিন প্রার্থীদের হাতে প্রচারণার এখনই
মোক্ষম সময়। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে যাচ্ছে, ততই ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রচারণার সময়। তাই প্রার্থীরা দিন-রাতকে এক করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। নৌকা ও ঈগল প্রতীকের পোস্টারে ছেয়ে গেছে নান্দাইল উপজেলা। হাট-বাজার ও নির্বাচনী ক্যাম্পে স্ব স্ব প্রার্থীর সমর্থকদের ভিড়। নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে এ শীত মৌসুমের রাতে চা-পানের পাশাপাশি ধুম চলছে বুট-মুড়ি খাওয়ার আয়োজন। এছাড়া বিভিন্ন দোকানপাট ও চায়ের স্টলে সাধারন মানুষের মুখে নির্বাচনী কথাবার্তা। যোগ্য প্রার্থী
বাছাইয়ের পাশাপাশি আলোচনা-সমালোচনা। কে হবে ৭ই জানুয়ারী নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ? এমনটি চলছে ১৫৪ ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল নির্বাচনী এলাকায়। নান্দাইল আসনে
আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বেশ তুঙ্গে থাকলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল ও তৃণমূল বিএনপি’র সোনালী আঁশ এর প্রচারণা। নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মেজর জেনারেল অব: আব্দুস সালাম আরসিডিএস পিএসসি। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০৮ সনে নৌকা প্রতীকে এ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে নান্দাইল উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন তাঁর সাথে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধিগণ ও পেশাজীবির মানুষও নৌকার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তবে ২০০৮ সনে সংসদীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন নান্দাইলের শর্তবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে দীর্ঘ ১১ মাস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা নামে বেশ বদনাম থাকায় কিছুটা প্রভাব রয়েছে ভোটের মাঠে। তবে টানা তিনবারের ক্ষমতায় থাকা বর্তমান সরকারের দলের
উন্নয়নের পাশে থাকতে বিভিন্ন পেশাজীবি ও সাধারন মানুষ নৌকায় প্রতীকে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঈগল প্রতীক নিয়ে জনসমর্থনে মাঠে
রয়েছেন দুইবারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন। আওয়ামীলীগ সরকারের ১০ বছর ক্ষমতা আমলে তিনি নান্দাইল পৌর সদর সহ ১৩টি ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে আবারো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনবান্ধব এমপি
হিসাবে বিজয়ী হতে চান। এর পূর্বে ২০১৪ সনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সংসদীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন এক জনসভায় ২০১৮ সনের জাতীয় নির্বাচনে তিনি নিজেকে অটোপাশ ও ২০১৮ সনের নির্বাচনে ভোট প্রদানকে ভোট মনে করেননি বলে মন্তব্য করায় বেশ সমালোচিতও হয়েছেন। এরই কিছুটা প্রভাব রয়েছে ভোটারদের জনমনে।তাঁরপরেও ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে রয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, নৌকার প্রতীকে নির্বাচিত হওয়া ছয়জন ইউপি চেয়ারম্যান সহ বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্যগণ তার পাশে আছেন। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না আসায় এ আসনে ভোটের মাঠে ঈগল প্রতীকের বিজয়ী হওয়ার আশাবাদী ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে নৌকা ও ঈগল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কিছুটা সহিংসতা লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। অপরদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় নীরব ভূমিকায় রয়েছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য হাসমত মাহমুদ তারিক ও তৃণমুল বিএনপির
সোনালী আশঁ প্রতীকের প্রার্থী আবু জুনাঈদ বিল্লাল। তাঁরা পোস্টারে থাকলেও গণসংযোগে তাদেরকে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না।