জাল সার্টিফিকেটের তথ্য ফাঁস করায় হত্যা

20

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

অন্যের সার্টিফিকেট জাল করে চাকরির নেওয়ার তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় সহকর্মীর হাতে খুন হন জীবন চন্দ্র বিশ্বাস (২৮)।
এই ঘটনায় ঘাতক সহকর্মী আলম হৃদয় (২৬)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র এলআইসি শাখা।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

মুক্তাধর জানান,গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের ধানুয়া উত্তরপাড়ায় জীবন চন্দ্র বিশ্বাস (২৮) হত্যার শিকার হন। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার ‘এজিস সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ তারাকান্দা এলাকায়।এই ঘটনায় নিহতের ভাই সুমন চন্দ্র বিশ্বাস (২৩) শ্রীপুর থানায় মো.শফিকুল আলম জয় (২৮) নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে হত্যা মামললা দায়ের করেন। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিউল আলম হৃদয় (২৬) নামে এক যুবকের বিষয়ে তথ্য পায়। যিনি এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। তার গ্রামেররবাড়ি নেত্রকোনার হোসেনপুর। গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সিআইডি তাকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করে।

সিআইডি কর্মকর্তা মুক্তা ধর বলেন, গ্রেফতারের পর হৃদয় জানায়,সে তার বড় ভাই শফিকুল আলম জয় (২৮) এর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পাসের সনদপত্র দিয়ে নিজে এজিস সিকিউরিটি ফোর্সে চাকরি নেয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২১ দিনের সিকিউরিটি গার্ডের কোর্স করে ময়মনসিংহের ভালুকা থানার “দি এপ্যারেলস ইস্ট জামিরদিয়া” নামের পোশাক কারখানায় গার্ড হিসেবে প্রায় ৮ মাস কাজ করে। পরবর্তীতে গাজীপুরের শ্রীপুরের ‘হাজী বাড়ী প্লান্ট’নামে একটি হাঁস,মুরগীর খামারের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে প্রায় ২ মাস কাজ শুরু করে আলম হৃদয় (২৬)।

এই খামারেই জীবন চন্দ্র বিশ্বাস এর সঙ্গে কাজের সুবাদে তার পরিচয় হয়। কোম্পানীর ৪ রুমের ভাড়া করা বাসায় তারা দু’জন প্রায় দুইমাস একই রুমে বসবাস করে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে জীবন চন্দ্র অভিযুক্ত হৃদয়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে না হলে সে জাল সার্টিফিকেটেরর কথা জানিয়ে দিবে। এতে উভয়ের মধ্যে বাগবিতন্ডা তৈরী হয়। একপর্যায়ে হৃদয় ঘরে থাকা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি দিয়ে সহকর্মী জীবন চন্দ্র বিশ্বাসের পেটের মধ্যে আঘাত গুরুতর রক্তাক্ত জখম হলে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন ঘাতক সাইফুল।