মসজিদবাড়িয়ায় অনিয়মের মধ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

9

মোঃ তারিকুল ইসলাম (সুজন) মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬নং মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের ভয়াং শরাফাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ইট বালি সিমেন্ট দিয়ে তৈরি শহিদ মিনার করা থাকতেও ও ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে কলা গাছের তৈরি মিনার দিয়ে। বাস্তবচিত্রে দেখা যায় ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে তৈরি শহীদ মিনার করা থাকলেও সেটা খরকুটো, গোবরে ভরা নোংরা অবস্থায় পরে আছে।
এ বিষয় শরাফাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এর প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই স্কুলের জমি নিয়ে অনেক বছর ধরে ঝামেলা চলিতেছে,স্কুলের পাশের বাসিন্দা ইউছুফ মৃধা (৫৫) ও তার ভাই হারুন মৃধা (৪৫) অনেক বছর পর্যন্ত শহীদ মিনার ব্যবহারে বাধা দিয়ে আসছে তাই আমরা পাকা তৈরি মিনার রেখে কলাগাছ দিয়ে মিনার তৈরি করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করিতেছি। এমনকি যেখানে পাকা মিনার তৈরি করা সেখানে প্রতিপক্ষ খরকুটা রেখে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাই সেখানে প্রোগ্রাম পালন করতে পারিনি।এ ব্যপারে মোঃ ইউসুফ মৃধা বলেন আমরা ওই স্কুলে জমি পাব তাই ওখানে খরকুটো রেখে দিয়েছি যাতে আমাদের জমি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিতে না পারে। শহীদ মিনার সেখানে আছে, কিন্তু আমাদের কি করার আছে আমরা তো জমি পাব।এদিকে স্কুলের মাঠ যেন গাড়ি রাখার গ্রেজে পরিণত বাস্তবচিত্রে দেখা যায় স্কুলের মাঠ ৩০ থেকে ৩৫ টি গাড়ি রাখা আছে এ বিষয় প্রধান শিক্ষকের জানতে চাইলে তিনি বলেন স্কুল বন্ধ তাই গাড়ি গুলো রেখেছে আমি গত কালকে নোটিস দিয়েছি তারা এখনো গাড়ি গুলো নেয়নি, গোপন সুত্রে জানা যায় যে ওই স্কুলের ক্লার্ক মোঃ আবুল হোসেনের ছেলের গাড়ি দিনের পর দিন স্কুল মাঠে পরে থাকে, তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা সত্য বলে স্বিকার করেন।স্কুলে ছাত্র ছাত্রীরা বলেন স্কুল বন্ধ কিন্তু তাতে কি হবে স্কুল খোলা থাকতেও এভাবে গাড়ি গুলো এখানে রাখে, এতে আমাদের খেলাদুলা করতে সমস্যা হয় আমরা চাই এ গাড়ি গুলো স্কুল মাঠে যাতে আর না রাখতে পারে ।
এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পতাকা উত্তোলন করা হয়নি মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬ নং মজিবাড়িয়া ইনিয়নের সুলতানাবাদ পোস্ট অফিসে ও ৫ নং কাকরাবুনিয়া ইউনিয়নের গাজিপুরা পোস্ট অফিসে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি তুলেছেন অনেকে।জানা যায়, সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারী)
সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বিধান মতে সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত রাখার কথা রয়েছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি। এমনকি শহীদ বেদিতে ফুল দেয়াসহ কোন কর্মসুচিই পালন করেনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অফিস গুলোতে।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয় গুলো খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।