লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নেই কোনো শহীদ মিনার, শেষ ভরসা কলা গাছ

13

সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়েছে কয়েকজন কিশোর। রাত ১২ টা এক মিনিটে ভাষা দিবস ও শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে কলাগাছের তৈরি মিনারটি পুরোপুরি প্রস্তুত।রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার চর আফজল আদর্শ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি তৈরি করা হয়। বিদ্যালয়টি চর রমিজ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আদর্শপাড়া গ্রামে অবস্থিত।এতে শ্রম দিয়েছেন রামগতি আ স ম আবদুর রব কলেজের বিএসএসের ছাত্র মো. শেখ রাসেল, কলেজছাত্র কামরুল হাসান শাকিব, স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জলিল ও তামজিদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয় মাঠে ও আশপাশের কাছে ধারেও কোন শহীদ মিনার নেই। এতে প্রতিবছর মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না স্থানীয়রা। এবার ওই চার কিশোর ৭সাত টি কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনারটি বানিয়েছে। তিনটি মিনার তৈরি করে সাদা কাপড় জড়িয়ে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়। মাঝখানের মিনারটি দেশের পতাকায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আয়তকারের মতো চারপাশে সুতার মধ্যে রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে শহীদ মিনার এলাকা। রাতে অন্ধকার পরিহারে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।আয়োজক শেখ রাসেল জানান, মেঘনা নদী ভাঙন কবলিত রামগতির অনেক বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নেই। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তাদের এলাকায় শহীদ মিনার গড়ে উঠেনি। এর আগে তারা রাতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি। ভোরে তারা দূরের কোন শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হয়েছে। তবে এবার তারা নিজেরাই কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করেছে। রাতেই তারা ফুলেল শ্রদ্ধা জানাবে মিনারটিতে।চররমিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহিদুল ইসলাম দিদার বলেন, আমার ইউনিয়নের ৩তিন টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২০বিশ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও কাঠ দিয়ে প্রতিবছর শহীদ মিনার বানিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। মাতৃভাষার জন্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে সংশ্লিষ্ট দফতরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি৷