ভাড়াটে প্রেমিকা’ দিয়ে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ না পেয়ে শহিদুলকে হত্যা

19

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

‘ভাড়াটে প্রেমিকা’ দিয়ে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ না পেয়ে শহিদুলকে হত্যা শহিদুল হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আসামিরা
শহিদুল ইসলাম (৩২) দীর্ঘদিন ধরে একটি সমিতি পরিচালনা করে আসছিলেন। সমিতির এক পার্টনার আলমগীর মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে ববিতাকে ভাড়া করে শহিদুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করান। পরে মুক্তিপণের আশায় ববিতাকে দিয়ে শহিদুলকে নিরিবিলি স্থানে ডেকে আনেন। মুক্তিপণ না পেয়ে শহিদুলকে বেধড়ক পিটিয়ে ফেলে যান। পরে চিকিৎসাধীন শহিদুলের মৃত্যু হয়।

ঢাকার অদূরে আশুলিয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর শহিদুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী মো.আলমগীরসহ সাতজনকে টাঙ্গাইল, শেরপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার থেকে আজ রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর পর্যন্ত র‍্যাব-১ টাঙ্গাইল, শেরপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন মো.আলমগীর (২৯),ববিতা খাতুন ওরফে আকলিমা (২৪), সাগর হোসেন বাবু ওরফে কালা বাবু (২২),মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ (২০), আফজাল হোসেন (২৬),রফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর (৩৯) ও রাকিব শেখ (২২)।

রোববার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল মোমেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা শহিদুল ইসলামকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন,নিহত শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া বাইপাইল বুড়িরবাজার এলাকায় যৌথভাবে কর্ণফুলী শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি শহিদুলের সঙ্গে থাকা মোবাইল থেকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার মাসুদকে জানান,শহিদুল অসুস্থ হয়ে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় পড়ে আছেন। তখন মাসুদ ওই স্থানে গিয়ে শহিদুলকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টায় আশুলিয়ায় ডেন্ডাবর কাঁঠাল বাগান ফয়েজের মোড়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় অটোরিকশার মধ্যে দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন,তাৎক্ষণিক মাসুদ শহিদুলকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে পলাশবাড়ী হাবিব হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থা গুরুতর দেখে মুজারমিল ল্যাব-১ হাসপাতালে ও সেখান থেকে শহিদুলের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে পরদিন আনুমানিক রাত ২টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শহিদুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তার ভাই আবুল মনসুর বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। র‍্যাব-১ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সঙ্গে ছায়া তদন্ত শুরু করে ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আলমগীর ভুক্তভোগীর সমিতির পার্টনার। তিনি শহিদুলকে অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণের লোভে অর্থের বিনিময়ে তার পূর্বপরিচিত একটি মেয়েকে (ববিতা) রাজি করান। পরে মেয়েটি অত্যন্ত সুকৌশলে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে শহিদুলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। আলমগীর অল্প সময়ে বেশি টাকা উপার্জনের লোভে এক মাস আগে ববিতাকে শহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বর দেন ও প্রেমের সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে ববিতাকে দেওয়া ঠিকানায় শহিদুলকে নিয়ে আসতে বলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়,গত ৮ ফেব্রুয়ারি ববিতা শহিদুল ইসলামকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে আসেন। ববিতা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শহিদুলকে নিয়ে ঘটনাস্থল আশুলিয়া পলাশবাড়ী তালতলা মাঠে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আফজাল, সাগর হোসেন বাবু,মাসুদ, রাকিব,রফিকুল ইসলামসহ পলাতক আসামি মিলন,পিন্টু ও ধলা বাবু ভুক্তভোগীকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মুক্তিপণের জন্য হাতুড়ি এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।

র‍্যাব জানায়,আসামিরা শহিদুল ইসলামকে দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার সমিতির আরেক পার্টনার দিদারুল ইসলামের কাছে মুক্তিপণ বাবদ এক লাখ টাকা বিকাশ করে দেওয়ার জন্য বলেন। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় আসামিরা পুনরায় হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। শহিদুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আফজাল তাকে আশুলিয়ার নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমিতির পার্টনার মাসুদকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। আসামিরা ভুক্তভোগীকে অচেতন অবস্থায় আশুলিয়ার নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অটোরিকশায় রেখে পালিয়ে যান। ঘটনার পর আসামিরা বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে চলে যান বলে স্বীকার করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে লে.কর্নেল আব্দুল মোমেন বলেন,ববিতাকে আলমগীর মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া করেন। তাদের ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ ছিল না। মূলত অল্প সময়ে অধিক টাকা আয়ের জন্যই আসামিরা ঘটনাটি ঘটায়।