চাকরির নামে চুরি,গ্রেফতার-১

22

মো.দীন ইসলাম,ঢাকা

মিথ্যা নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিয়ে ভাষানটেকে রজনীগন্ধা টাওয়ারে রাঙ্গাপরী জুয়েলার্স হতে ৩০০ ভরি স্বর্ণ,ইমিটেশন গহনা ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যায় একটি চক্র। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি)

রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি)দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রধান) এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানান।

এরআগে গতকাল (১৯ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলার কড্ডা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার বজ্রযোগিনী এলাকায় অভিযান করে আসমী মো.মঞ্জুরুল হাসান শামীম (৩৮)কে গ্রেফতার করেছে

এসময় তার কাছ থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণ বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও ইমিটেশন গহনা উদ্ধার করা হয়।

হাফিজ বলেন,গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার সময় ভাষানটেক থানার পুরাতন কচুক্ষেত রজনীগন্ধা টাওয়ারের নিচতলার রাঙ্গাপরী জুয়েলার্স হতে একটি সংঘবব্ধ চোর চক্র আনুমানিক ৩০০ ভরি স্বর্ণ,ইমিটেশন গহনা ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যায়।

এ সংক্রান্তে গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনাল টিম গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ১ আসামীকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদকালে জানা যায় যে,চক্রের ২ জন সদস্য মাসুদ ও ইলিয়াস মিথ্যা নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে উক্ত মার্কেটে যথাক্রমে সিকিউরিটি গার্ড ও সুইপারের চাকরি নেয়। চাকরিরত অবস্থায় তারা উল্লেখিত দোকানে চুরির পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য চক্রের অন্যান্য সদস্যের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে থাকে।

পরিকল্পনামাফিক ঘটনার আগের দিন চক্রের অন্য এক সদস্য শাহীন মাস্টার ওই মার্কেটে ১টি দোকান ভাড়া করে মালামাল তোলার নাম করে বক্স বিশিষ্ট টেবিল ব্যবহার করে কৌশলে তালা ভাঙ্গার সরঞ্জামাদি মার্কেটে প্রবেশ করায়।

ঘটনার দিন আনুমানিক রাত ১টার দিকে চক্রের আরও ২ সদস্য শ্রীকান্ত ও তালা ভাঙ্গার মিস্ত্রী রাজা মিয়া মার্কেটে প্রবেশ করে মাসুদ ও ইলিয়াসসহ চোরাই কাজ সম্পন্ন করে আনুমানিক ভোর ৫টার সময় মার্কেট হতে বের হয়ে তাদের পূর্বে ভাড়াকৃত কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার বাসায় যায়।

সেখানে শাহীন মাস্টার ও গ্রেফতারকৃত আসামী মঞ্জুরুল হাসান শামীম পূর্ব হতেই চক্রের অন্য সদস্যদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ভাড়াকৃত বাসায় সকল সদস্যের উপস্থিতিতে প্রকৃত স্বর্ণ,ইমিটেশন গহনা ও নগদ অর্থ আলাদা করা হয়। শ্রীকান্ত চোরাইকৃত স্বর্ণ তার পূর্ব পরিচিত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ টাকা নিয়ে পুনরায় ভাড়াকৃত বাসায় ফিরে আসে।

অতঃপর চোরাইকৃত স্বর্ণ বিক্রয়লব্ধ অর্থ,ইমিটেশন গহনা ও চোরাইকৃত নগদ অর্থ নিজেদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ করে যে যার মত ওই বাসা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

জিঞ্জাসাবাদে আরও জানা যায় যে,ওই চক্রের মূল হোতা ফ্রান্স প্রবাসী নাসির। সে শামীমের মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও প্রাথমিক অর্থের যোগান দিয়ে থাকে। প্রত্যেক সদস্যের আলাদা আলাদা দায়িত্ব নির্ধারণ করা থাকে এবং তারা তদনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকে। ইতোপূর্বে তারা ঢাকা মহানগর ও এর আশপাশ এলাকায় একাধিক চুরি করেছে বলে জানা যায়।