বাঁশখালীতে গুণীজন স্মরণ সভায় উপসচিব শাব্বির ইকবাল

80

এনামুল হক রাশেদী, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
যে ধর্মের অনুসারীই হউনা কেন, নৈতিকতাহীন মানুষ কখনো ভাল মানুষ হওয়া যায়না, আর নৈতিকতা অর্জন করতে হলে ধর্মিয় শিক্ষার অনুকরন অনুসরন অপরিহার্য। ভাল মানুষদের মধ্য থেকে গুনিজন সৃষ্টি হয়। আর যে সমাজ গুনিজনদের কদর করতে জানেনা, সম্মান দিতে জানেনা, সে সমাজে গুনিজন সৃষ্টি হয়না। ইতিহাসের বিভিন্ন গুনিজনদের দৃষ্ঠান্ত তোলে ধরে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (উপ-সচিব) শাব্বির ইকবাল। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক গুণীজন স্মরন সভা ও মরনোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১৯ ফেব্রুয়ারী’২২ ইং শনিবার শনিবার সকাল ১০ টার সময় উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের গন্ডামারা-বড়ঘোনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ৬ জন গুণীব্যক্তির স্মরন সভা ও মরনোত্তর সম্মাননা প্রধান অনুষ্ঠানে উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট নুরুল মোহাম্মদ মোহাম্মদ কাদেরের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক সিকদার ও এডভোকেট দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত স্মরন সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল, মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ডক্টর মোঃ ফরিদ উদ্দিন ফারুক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলায় নব যোগদানকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুখ, কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা হাসনা হেনা চৌধুরী, বাংলাদেশ পুলিশের পিবিআই অফিসার ইনচার্জ চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, গন্ডামারা বড়ঘোনা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাসান মুরাদ চৌধুরী, সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবু অভিনাষ চন্দ্র দেব, চট্টগ্রাম সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের জি,এস গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহেদুল হক চৌধুরী মার্শাল।
বক্তব্য রাখেন, গন্ডামারা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান উন্নয়ন পরিষদের উপদেস্টা জাহাঙ্গির আলম, দক্ষিন চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সহঃসভাপতি নাঈম উদ্দিন মাহাফুজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কর্মকর্তা সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের উপদেস্টা এনামুল হক সিকদার মানিক, ইলিয়াছ চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসাইন,গুণীজন পরিবারের প্রতিনিধি মাওলানা নুরুল্লাহ সিকদার, অসিত বিহারী সুশীল, মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন, প্রমুখঃ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঁশখালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মানুষের আচার আচরনের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন, বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নে অনেক গুনিজন জন্ম নিয়েছে। যারা দির্ঘদিন ধরে প্রচারের আড়ালে ছিল, গন্ডামারা উন্নয়ন পরিষদ গুনিজনদের মরনোত্তর সম্মাননা প্রদান করে যে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, আইনজীবি, শিক্ষাবিধ সহ বিভিন্ন পেশাজীবি, ছাত্র শিক্ষকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। গুনিজন সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে গন্ডামারা উন্নয়ন পরিষদ এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্যের সারগর্ভ লেখা সমৃদ্ধ “শ্রুতি ও স্মৃতি” নামে দৃষ্ঠিনন্দন একটি প্রকাশনা উপস্থিত সকলের মাঝে বিতরন করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে দুপুরের লাঞ্চ বিতরনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।
উল্লেখ্যঃ, উপকূলীয় জনপদ গন্ডামারায় ক্ষনজন্মা কিছু সংখ্যক পুরুষ যারা নিজেদের স্বকীয় মেধা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিদীপ্ততায় যুগে যুগে নিজেদের মেধার আলো ছড়িয়ে পিছিয়ে পড়া সমাজকে আলোকিত করেছে, একটি সুন্দর, সৃজনশীল ও আলোকিত সমাজ গড়তে যারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখেছেন, তাদের মেধা ও কির্তির স্মরন ও স্বিকৃতি জানাতে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে শুরু করে অদ্যবধি শিক্ষা নৈতিকতা অসম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সহ সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আর্তমানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাঁশখালী খাটখালি নৌ বন্দর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পশ্চিম বাঁশখালী হোক দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত এই শ্লোগানে জনসচেতনামূলক কর্মসূচি, এলাকায় অসহায় গরীব মানুষদের কে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করন, যুব ছাত্র সমাজকে অসামাজিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার নিমিত্তে ক্রীড়ামুখী করার লক্ষ্যে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন, করোনাকালীন বিপর্যয় সময়ে জনসচেতনতার লক্ষ্যে মাক্স বিতরণ সহ
এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে সহায়তা করার মতো নানা বিধ কর্মকাণ্ডে বেশ প্রশংসিত হয়েছে সংগঠনটি।
প্রথমবার যেসব গুণীজনকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে তাঁরা হলেন, বিশিষ্ঠ গুনিজন মাস্টার আব্দুল খালেক চৌধুরী, মুফতি আব্দুস সামাদ সিকদার, মাওলানা ফরিদুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোক্তার আহমদ মেম্বার, স্বর্গীয় পুলিন বিহারী সুশীল ও মাস্টার কে,এম ইলিয়াছ।