এক মামলায় আদালতে দুই প্রতিবেদনে বৈধ চার্জশিটে অবৈধ’বললেন তদন্ত কর্মকতা

13

সোহেল সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আরজে টাওয়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে। ইনসেটে পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মামলায় আদালতে দুই রকম প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আশুগঞ্জ থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেলায় কর্মরত আছেন।

আশুগঞ্জের ৩ তারকা হোটেল আরজে টাওয়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে একটি মামলায় আদালতের দেওয়া প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্রে দুই রকম তথ্য দেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতে দেওয়া প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর আরজে টাওয়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে ৩৯ জনকে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এসময় দেশী-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাব বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করে। এ মামলায় আদালত মালিকানা যাচাই ও প্রতিবেদনের জন্য আশুগঞ্জ থানা পুলিশকে আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ২০ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বলা হয়, আরজে টাওয়ারকে জেলা প্রশাসন ‘এফ’ মানের লাইসেন্স ইস্যু করে এবং বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ‘তিন’ তারকা মান প্রদান করে। এ হোটেল ও রিসোর্টটি ২০১৯ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বারের লাইসেন্স প্রাপ্ত হয় এবং এতে তিন হাজার লিটার মদ জাতীয় পানীয় মজুদ করার অনুমতি পায়। আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে পরিদর্শক মনিরুল র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া মদ ও মদ জাতীয় পানীয়কে বৈধ উল্লেখ্য করেন।

পরে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) একই মামলায় পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সেখানে উদ্ধার হওয়া মদ ও মদ জাতীয় পানীয়কে অবৈধ উল্লেখ করেন। এছাড়াও আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে পরিদর্শক হিসেবে স্বাক্ষর করলেও অভিযোগপত্রে মনিরুল ইসলাম উপ-পরিদর্শক হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

রাঙামাটিতে বদলী হওয়া পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মদ বৈধ ও বিক্রয় করা অবৈধ লিখেছি। আর অভিযোগপত্রে উপ-পরিদর্শক ভুলে লেখা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরজে টাওয়ারের পরিচালক সরওয়ার শফিক বলেন, লাইসেন্সকৃত মদ-বিয়ার কীভাবে অবৈধ হয়? এখানে বিদেশিরা ছাড়াও যাদের লাইসেন্স আছে তারাই শুধু মদ পান করতে আসেন। কোনো প্রকার ডোপ টেস্ট না করেই সবাইকে মদ সেবনকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। আমরা এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপিল করবো।