বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রভাব

12

মাসুম বিল্লাহ,আবুল হোসেন গুরুদেব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত হন বঙ্গবন্ধু উপাধি আগে। পঞ্চাশের দশকে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদ হন সালাম, জব্বার, বরকত, রফিক, শফিক সহ নাম না জানা আরো অনেকে। একই সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনে জড়িতদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ সভাপতি আতাউর রহমান খান। সম্মেলনের মূল বক্তা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এসভায়। আর এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। শেখ মুজিবের এমন উদ্যোগকে মুজিবের প্রতি আকৃষ্ট হন বাংলা ভাষা প্রেমিক আবুল হোসেন। শেখ মুজিবের মতো সাহসী ও সংগ্রামী সংকল্প আবুল হোসেন গুরুদেবের মনে দানা বাঁধতে থাকে। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু নানা কর্মসূচি কে ফলো করেন এবং স্থানীয়ভাবে জনমত গঠন করে কাজে ব্রত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন আবুল হোসেন গুরুদেব মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি নিতে গেলেন পিতার কাছে, তখন বাড়ির সকল সদস্য, গুরুদেবের যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বজ্রকন্ঠে বঙ্গবন্ধু বললেন যার” যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো” তখন আবুল হোসেনকে আর ধরে রাখতে পারেনি তার পরিবার। কথিত আছে ১৯৭৯এর নির্বাচনী পথ সভায় বঙ্গবন্ধু একবার নেমেছিলেন যশোর সদরের হাশিমপুরে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে একটি বটবৃক্ষ ছিল। সে বৃক্ষের শিখরে বসে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সে সময়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনের বাবা ও আবুল হোসেন গুরুদেব, শেখ মুজিবকে সঙ্গ দেন এবং এলাকা ঘোরান। তবে এই ঘটনাটির কোন ফটো ও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশ স্বাধীন হলে জয় বাংলা” জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগানের লিড দিতেন গুরুদেব। ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সময়ে যে সকল ব্যক্তি ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন এবং তারা স্বাধীন বাংলায় বঙ্গবন্ধুর নামটি বলা পর্যন্ত নাজায়েজ করেন, ঠিক সেরকম একটি পরিবেশে ১৫ আগস্ট এ বাড়ি বাড়ি চাল তুলে কাঙালী ভোজের ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন আবুল হোসেন গুরুদেব।