বিরামপুরে ৫৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

29

মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর হাতে হরেক রকমের বই। কারও হাতে বিজ্ঞানের বা তথ্যপ্রযুক্তির বই। প্রতিষ্ঠানে কেউবা অ্যাসাইনমেন্ট এর শীট নিয়ে নিয়ে ব্যস্ত। অনেক শিক্ষক কয়েক বছর পার করছেন বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠদান পরিকল্পনায় থাকা ব্যাকরণ ও বাংলা ভাষার ব্যবহার পড়াতে। কিন্তু ভাষার মাসে এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে জানানোর উদ্দেশ্যে দেখানোর সুযোগ নেই “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিতে তৈরি কোনো শহীদ মিনার।
দিনাজপুরে জেলার বিরামপুর উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৫৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্য বইয়ে ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদদের ছবি থাকলেও প্রতিষ্ঠানে নেই দৃশ্যমান কোনো শহীদ মিনার। ফলে, এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলন এর স্মৃতি এখন শুধুই পাঠ বইয়ের কাগজে বন্দি। উপজেলায় এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ৩টি কলেজ, ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
শহীদ মিনার নেই এমন তালিকা থেকে বাদ পড়েনি ৮০ বছরের বহু পুরনো ও ঐহিত্যবাহী একটি বিদ্যাপীঠ। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনেকটা দায় সারাভাবে শহীদ দিবস পালন করে থাকেন। তবে কোনো কোনো বছর অনেক প্রতিষ্ঠান হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে পাশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে দায় সারাভাবে ফুল দিয়ে আসেন। এতে করে ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও আন্দোলনে শহীদদের বিশেষ অবদানের কথা জানা থেকে অনেক টাই বঞ্চিত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা।উপজেলায় শহীদ মিনার রয়েছে এমন তালিকায় রয়েছে, বিরামপুর সরকারি কলেজ, কেটরা ডিগ্রি কলেজ, কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়, দেশমা উচ্চ বিদ্যালয়, শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আমানুল্লাহ আদর্শ বিদ্যা নিকেতন, পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয়, একইর উচ্চ বিদ্যালয় ও বিনাইল উচ্চ বিদ্যালয়। তবে উপজেলার দুটি ছাড়া সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। তবে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি অর্থ খরচ করে নিম্ন মানের ও দায়সারা শহীদ মিনার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে থাকে। সেখানে এলাকার অনেক মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করারও অভিযোগ উঠেছে।১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত ও উপজেলার ঐহিত্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী প্রায় ১১’শত। এখানেও নেই শহীদ মিনার। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরমান হোসেন বলেন, কিছু সমস্যা থাকার কারণে বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের প্রবেশ দরজার পশ্চিম পাশে একটি সুন্দর শহীদ মিনার তৈরি করার জন্য জায়গা ঠিক করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেখানে একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।এলাকার সচেতন মহল দাবি করছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে এখন অনেক এগিয়ে। অদূর ভবিষ্যতে তারা আরও এগিয়ে যাবে। তবে বাঙালি জাতি হিসেবে এখনকার শিক্ষার্থীরা যদি বাংলা ভাষার জন্ম ও ভাষা আন্দোলনে শহীদদের বীরত্বগাঁথা ও আত্মত্যাগের কথা না জানতে পারে তাহলে সেটি খুব দুঃখজনক।হাবিবপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ না আমাদের প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। প্রতিবছর মহান শহীদ দিবসে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিরামপুর সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আসে। প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারের জায়গা নির্ধারণ করে একটি এস্টিমেট শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পেলেই শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।এ বিষয়ে কথা হলে বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি খায়রুল আলম রাজু বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যা থাকার কারণে শহীদ মিনার তৈরি করতে পারেনি। তবে উপজেলার প্রাথমিকে অধিকাংশ কলেজ ও মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থায়নে ৯টি দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাঁকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, দিনাজপুর-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বিরামপুর উপজেলার অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার তৈরির বিষয়ে আর্থিক বরাদ্দে সহযোগিতার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।