দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস দরিদ্ররা নিঃস্ব

139

নুরুল আমিন ভূঁইয়া দুলাল নিজস্ব প্রতিনিধি :

দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি আর নতুন কথা নয়। প্রায় সারা বছর মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে সাধারণ মানুষের হাত পুড়েই চলেছ অনবরত। এই সমাজের প্রান্তিক মানুষদের কথা বাদই দিলাম, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারেও যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কষাঘাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর দশা।
বর্তমানে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব এসে পড়ছে বাজারে। সিলিন্ডার গ্যাসের দাম দু’দফায় বাড়িয়ে ৯৫০ টাকার গ্যাস দাম বৃদ্ধি করে এখন বাজারের পনেরশত টাকা প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছ। দ্রব্যমূল্যের এই পাগলা ঘোড়ার মুখে লাগাম দিবে কে ? এদিকে নিত্যপণ্য চালডাল সয়াবিন ও সর্ষের তেলের মূল্য প্রতি দিন চড়চড় করে বেড়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
অতি সাধারণদের বাড়িতে তেল দিয়ে মেখে আলুসিদ্ধ ভাত খাওয়াও যেন আজ বিলাসিতা মনে হয়।
এদিকে সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজি বাজারের প্রতিটি সবজির মূল্য আকাশছোঁয়া, প্রতিটি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বাজার। বাজার মনিটরিং এ সরকারিভাবে কোনো দ্রুত ব্যবস্থাপনা নেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিনের-পর-দিন দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে তাদের ইচ্ছেমতো।
কোভিড ১৯-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বহু মানুষেরই হয় চাকরি নেই, অথবা কর্মক্ষেত্রে কাজের সঙ্কোচন ঘটেছে। এর ফলে উপার্জন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সংসার চালানোই মনের মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা। রায়পুর গাজী শপিং মলে কাজ করা একটি ছেলে সে দিন কথায়-কথায় বলছিলেন যে, শপিংমলে আগের মত সেই বেচাবিক্রি নেই তার সে প্রভাব পড়েছে আমরা যারা দোকানে কর্মরত আছি আমাদের উপর। তিনি আরো বলেন, তাঁর মতো অনেক কর্মী আগের চেয়ে অনেক কম দিন কাজ পাচ্ছেন। বর্তমানে আয় অর্ধেকেরও কম হয়ে গিয়েছে। এই মানুষগুলির কথা আমাদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে, এবং সরকারপ্রধান কেও এ বিষয়ে অতি দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। এবং দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে এই ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে না পারলে জনসাধারণ বিক্ষোভের রাস্তায় নেমে পড়তে পারেন। জনমনে প্রশ্ন বাজারে কি সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই? ইতোমধ্যে ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় !

সুশীলরা বলেন, এই অর্থনৈতিক অবস্থায় উত্তরোত্তর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি শাসকের ‘শোষক’ রূপটিকে প্রকাশ করে। এবং তার জন্য পূর্বসূরিদের দোষারোপ করাও হাস্যকর বলে মনে হয়। জ্বালানিস তেলের দামের ৫৫% দাম আসলে ঠান্ডা মাথায় বিচার করলে বেরিয়ে আসবে তাহলো সরকারি কর।
এই সত্য সবার জানা ও বোঝা খুব দরকার। বহু পরিচিতকে বলতে শুনেছি যে, “আমায় আয়কর দিতে হয় না।” কিন্তু এই যে অপ্রত্যক্ষ কর প্রতিনিয়ত তাঁরা দিয়ে চলেছেন, সেটা কি যথেষ্ট নয়? ব্যক্তিগত গাড়ি হোক, বা স্কুটি কিংবা গণপরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই যে জ্বালানির দাম বা টিকিটের ভাড়া আমরা দ্বিগুণ দিচ্ছি, তা তো আসলে করের একটা অংশ। প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায় দরকারি, কিন্তু সঙ্গে নাগরিক সমাজ যাতে মূল্যবৃদ্ধি এবং করের বোঝায় জর্জরিত না হয়ে পড়ে, সেটা দেখাও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কর্তব্য।
চারিদিকে দুর্ভিক্ষের মতো নীরব হাহাকার চলছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণ যে দিশেহারা বাজারে গেলেই বোঝা যায়।
অতি দ্রুত সরকার প্রশাসনকে নাগরিক স্বার্থের বিবেচনা করে, নাগরিক অধিকার বিবেচনা করে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষিত করতে না পারলে, এই দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেটকে ভেঙ্গে ফেলে বাজার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বল, অভিজ্ঞরা মনে করেন।