ঝিকরগাছা বেত্রাবতি নদীটি বর্জের ভাগাড়, মারাত্মক পরিবেশ দূষণ,জনসাধারণের চরম ভোগান্তি

24

আঃজলিল,(শার্শা যশোর)প্রতিনিধিঃ যশোরের শার্শা ঝিকরগাছা উপজেলার বেত্রাবতি নদীটি বর্জের ভাগাড়, মারাত্মক পরিবেশ দূষণ, জনসাধারণের চরম ভোগান্তির মধ্যে পতিত। পানির অপার নাম জিবন আর সেই জিবন কে মরনে পরিনত করার জন্য সমাজের একশ্রেনীর মানুষি যথেষ্ট।”কিন্তু কে শোনে কার কথা” সেই পরিবেশ যদি হয় চরম দূষন তাহলে সেটাতো পরিবেশ বান্ধবের পরিপন্থী বিসাবে বিবেচিত হয়। ঠিক তেমনই যশোরের শার্শা ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর বাগআঁচড়ার বেত্রাবতি নদীটা বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা গো ভাঙ্গাড় ও বিস্তৃত নদী জুড়ে পরগাছা শেওলার কারনে এলাকার জনজীবন ও স্বাস্থ্যের হুমকিতে।ঝিকরগাছার শার্শা শংকরপুর বাগআচড়া ইউনিয়ন এর বেত্রাবতি নদীর ব্রীজ সংলগ্ন দুই পারের দুই ধারে প্রায় ৮/৯ বছর যাবত শার্শার বাগআঁচড়া বাজার ও ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নের বাজারের বর্জ ফেলার ফলে নদীর নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি পানির দুষন পরিবেশ রোগ জিবানুর ছড়াছড়ি সহ নানা প্রকার অসুবিধার সম্মুখীন পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করতে হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ভোগ করতে হচ্ছে হাজার ও জনজিবনের। স্থানীয় ও চলাচলরত ব্যাবসায়ী সামাজিক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ত কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, ঝিকরগাছা শার্শা শংকরপুর,বাগআঁচড়া,ইউনিয়নের বেত্রাবতি নদীটির পরিবেশ বর্তমানে এতোটাই খারাপ অবস্থায় পরিনত হয়েছে যে বলার মত কোন ভাষা নেই। বর্তমানে নদিটির যে কি অবস্থা সেটি স্বচক্ষে না দেখলে বুঝানো সম্ভব নয়।আজকের এই বেত্রাবতি নদীটির যে নদীটাই এক সময়ের ব্যাবসা বানিজ্যের জন্য লন্চ ষ্টিমার নৌকা চলাচল করতো আজকে সেটা ও বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা গোভাঙ্গাড়ের কারনে নদীটা আজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।এলাকার খেটেখুটে খাওয়া সাধারণ অসহায় দরিদ্র মানুষ গুলো তার প্রতিনিয়ত মাছ ধরে তাদের জিবন জিবিকা নির্ভর করতো সেটাও থেকে মানুষ বঞ্চিত সমাজের একশ্রেনীর কু চক্রিমহলের কারনে। বর্তমানে নদীরাটার যে কি অবস্থা তা বলে বোঝানা সম্ভব নয় শুধু কি না তাহা নই এই নদীটার পানি ব্যাবহার বা গোসল করার কোন উপায় নেই।আমি/আপনি/বা আমরা যদি একবারএক নজর দিয়ে বেত্রাবতি নদীটির কথা উপলব্ধি করে নিজ চোখে দেখি তাহলে সারাজীবন আপনার মনে থাকবে এই নদীটার কি না জানি একটা অবস্থা যেটি আজকে চরম দুর্গন্ধের এক জরা জির্ন ময়লা আবর্জনার বিশাল স্থপ।
এই নদীটির উপর দিয়ে যাওয়ার আগে আধা কিঃমিঃ দুর হতে নাক মুখ চেপে চলতে হচ্ছে সবার।প্রথম দিক ময়লা আবর্জনা ফেললে তেমন কোন সমস্যা হয়নি কিন্তু বর্তমানে এখানে প্রতিদিন বাজারের হাসপাতালের বিভিন্ন ছিরিন্জ,সুই স্যালাইনের ব্যাগ, তুলা গজ,ব্যান্ডেজ সহ নানা রকম ময়লা, সেলুনির কাটা চুল গরু ব্যাবসায়ী কসাইদের গোঘাসি,চুনা,গোবর হাড়, মুরগি ব্যাবসায়ীদের উচ্ছিষ্ট ময়লা, কাচা বাজারের পচা তরকারী সহ নানান রকমের ময়লা আবর্জনার কারনে বেত্রাবতি নদীটি আজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ফলে সর্ব সাধরনের উপকৃত ব্যাবহত নদীটি বড় অসহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে।অপার দিকে শেওলার বিস্তৃত বৃদ্ধির কারনে নদীটা একেবারে ব্যাবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয় এই বেত্রাবতি তিরুবর্তি নদীর পশ্চিম পাশ্ববর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ মাদ্রাসা মন্দির অবস্থিত এবং সংখা লঘু হিন্দু সম্প্রাদয়ের বাস বসবাস ও পূজা অর্চনার ঠাকুর বিসর্জন অন্যাতম স্হান হলো এই বেত্রাবতি নদীটি।কিন্তু গো মসংসের ময়লা আবর্জনা রক্ত এই নদীর পানিতে ফেলার কারনে আজকেই তার সবকিছু থেকে বন্চিত যাহার ফলশ্রুতিতে সংখ্যা লঘু হিন্দু ধর্ম সম্প্রাদায়ের লোকেদের মনে চাপা খোভের আগুন ধিকে ধিকে জলে উটছে।সে কারনে হিন্দু সম্প্রাদায়ের কেউই আর এই নদীতে পূজা অর্চনার ঠাকুর বিসর্জন সহ নানা রকম পুজার সামগ্রিক বিষয় থেকে তারা আর ওই নদীতে যায়না যেটি খুবই দুুঃখ জনক ব্যাপার।বর্তমান সময়ের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার আপামর জনসাধারণের অভিযোগ করে জানান, ময়লা ফেলার কারনে রাস্তার পাশের অনেক গুলো বড় বড় তাজা গাছ পুরোপুরি মারা গেছে এছাড়া আরও অনেক গাছে মরার পথে। গাছসহ মানুষের জীবন বাঁচাতে হলে নদীর নাব্যতার নির্মল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই এখান থেকে এই ময়লা আবর্জনা সরিয়ে ফেলা আবশ্যক বলে মনে করেন স্হানীয় সচেতন মহল।এ ব্যাপারে বাগআচঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের ও শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত দুই চেয়ারম্যানকে নদীর বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তাহার উভয় সর্ব সম্মতি ক্রমে বলেন বিষয়টি আসলেই খুবই দুঃখ জনক-তবে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা উপর মহলে কথা বলে দেখবো।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের একান্ত দাবী শার্শা ঝিকরগাছা বেত্রাবতী নদীটির ময়লার ভাঙ্গড়ের স্তুপটির অবস্থার যে কি দৃশ্য বা সেগুলো যেন অন্যত্র সরিয়ে ফেলার তাৎখনিক ব্যাবস্হা গ্রহন করেন সেজন্য বাগআচঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের ও শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত দুই চেয়ারম্যানকে সরেজমিনে এসে বিষয়টি দেখভাল করার জন্য এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে বিশেষ ভাবে আহবান করা গেল।পাশা পাশি বিষয়টি নজরে নেওয়ার জন্য যশোর জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক মহাদয় মোঃ তামিজুল ইসলামের এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অত্র এলাকার সচেতন মহল।