ফার্মেসীর ভিতরে ধর্ষণের ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীর ৬ টুকরা লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

32

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার পৌরসভার ব্যারিস্টার আ.মতিন মার্কেটের’অভি মেডিকেল হল’নামে একটি ঔষধের দােকান থেকে শাহনাজ পারভীন জোৎস্না (৩৫) নামের ৬ টাুকরা করা লাশ উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ভাটারা থানার নুরের চালা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-জিতেশ চন্দ্র গােপ (৩০),অনজিৎ চন্দ্র গােপ (৩৮) ও অসীত গােপ (৩৬)।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয় সংস্থাটির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন,চিকিৎসার কথা বলে প্রতারণামূলকভাকে অপেক্ষায় রেখে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে শাহনাজকে। পরে সকলের কাছে বলে দেওয়ার কথা বললে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে। লাশটিকে পরিকল্পিতভাবে ৬টি অংশে বিভক্ত করে ফার্মেসীতে থাকা ওষুধের কাটুন দিয়ে ঢেকে রাখে। গ্রেফতারকৃতরা লাশটির বিভিন্ন অংশগুলো কোন এক মাছের খামারে ফালানোর পরিকল্পনা করছিলেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, নিহত শাহনাজের স্বামী ছরকু মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী। তারা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরে থাকতেন। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে ছিলো।
তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের ঔষধ পত্র জিতেশের মালিকানাধীন’অভি মেডিকেল হল’ফার্মেসী হতে ক্রয় করেন। সেই সুবাধে
জিতেশের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। শাহনাজ কিছুদিন যাবৎ বেশ কিছু গােপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ওই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে সুপরামর্শের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জিতেশের ফার্মেসীতে আসে। পরে ফার্মেসীর ভিতরে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখে ও কাস্টমারের ভিড় কমলে তার সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধানের জন্য সঠিক ঔষধ তাকে প্রদান করা হবে বলে জানায় গ্রেফতারকৃতরা। পরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ওই প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে ঘুম পড়িয়ে রাক্ষে শাহনাজকে।

জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সিআইডির এই কর্মকর্তা আরো বলেন,ঐদিন রাতে জিতেশ বাহিরে তালা দিয়ে চলে যায়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ হলে ও রাত আরাে গভীর হলে তারা পুনরায় তালাবদ্ধ
ফার্মেসী খুলে এনার্জি ড্রিংকস পান করে। তারপর তারা ভিকটিমকে জোর পূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই সময় ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারের সদস্য ও অন্যান্যদের নিকট প্রকাশ করার কথা বললে,আসামীরা তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। সে মােতাবেক তারা পরস্পর যােগসাজসে ভিকটিমের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে এবং বালিশ দিয়ে মুখে চেপে ধরে তাকে হত্যা করে। তারপর লাশটি ধারালাে ছুরি দিয়ে মাথা,দুই হাত,দুই পা এবং বুক-পেটসহ ৬টি অংশে বিভক্ত করে ফেলে।

মুক্তা ধর বলেন,লাশটি সরানোর জন্য দোকানে থাকা ঔষধের কার্টুন দিয়ে খন্ডিত অংশগুলাে ঢেকে রেখে ফার্মেসী তালা দিয়ে তারা চলে যায়। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে ভিকটিমের লাশের খন্ডিত অংশগুলাে মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানায়।