অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ সাতছড়ির গভীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার

42

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের গোর্কণ গ্রামের মেয়ে ও কুন্ডা ইউনিযনের কুন্ডা গ্রামের বধুর লাশ ১৭ ফেব্রæয়ারী ২০২২ রোজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: আলী আশরাফের দিক নির্দেশনায় ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত চম্পক দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে।

এ সময় নিহতের গলায় ফাঁস লাগানো ছিল বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।নিহত গৃহবধূর নাম আছমা আক্তার(২২) সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের আলী মিয়ার মেয়ে।

জানা যায় প্রায় ৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কুন্ডা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোঃ আলমগীর মিযার সাথে বিয়ে হয় আছমার। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী আলমগীর (২৬) পেশায় একজন ইট ভাটার শ্রমিক। যৌতুকের জন্য স্ত্রী আছমাকে প্রায়ই নির্যাতন করত আলমগীর। এমনকি আছমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে দেয়া দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণে বিক্রি করে দেয় আলমগীর। এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্য চলছিল।এক পর্যায়ে স্ত্রী আছমা স্বামীর ওপর অভিমান করে নিজ পিত্রালয়ে চলে যায়। সেই গর্ভে আলমগীর মিয়া তার পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী (১৬ ফেব্রয়ারী) স্বর্ণ কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ পিত্রালয় থেকে স্ত্রী আছমাকে মাধবপুর বাজারের কথা বলে বের করে নিয়ে আসে।

পরে সিএনজি ভাড়া করে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে নিয়ে যা। সেখানে সুযোগ বুঝে পাষন্ড স্বামী আলমগীর স্ত্রী আছমাকে সাতছড়ির গহীন জঙ্গলে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় । আছমার পরিবার তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে আছমার স্বামী আলমগীরের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে। তখন আলমগীর আছমার সাথে তার দেখা হয়নি বলে শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে দেয়।

পরে বিষয়টি আছমার বাবা আলী মিয়া নাসিরনগর থানায় যোগাযোগ করে পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ সন্দেহজনক আছমার স্বামী আলমগীর মিয়াকে রাতেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে আলমগীর হত্যার কথা স্বীকার করে। চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলী আশরাফ বলেন লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাসিরনগর থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে,আসামী আলমগীরকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।