টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ

37

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীকে টিকা না নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের।টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, কেন্দ্রে সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী করোনা টিকা নিতে আসে। টিকা দেওয়া শুরু হলে আগে নিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের নিয়োজিত ১০-১২ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা শুরু করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। অনেকেই পাশের নর্দমায় পড়ে আহত হয়।
আখানগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিরিন আকতার জানায়, সকাল ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। স্কুল থেকে প্রায় ৩০টি ইজিবাইকে করে আমরা হাসপাতালে এসেছি। ৯টার দিকে এসে দেখি প্রচুর ভিড়। লাইনে দাঁড়াতেই শুরু হয় লাঠিপেটা। বাঁচতে আমার তিন সহপাঠী নর্দমায় পড়ে আঘাত পায়।গড়েয়া ইউনিয়নের চকহলদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা ইসলাম। বড় ভাইয়ের সঙ্গে এসেছে টিকা নিতে। কিন্তু টিকা কেন্দ্রে ভিড় আর স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে থাকা লাঠি দেখে ভয় পায় সে।ফাহিমার বড় ভাই সজল বলেন, টিকা নিতে এসে শিক্ষার্থীদের নাকাল অবস্থা। অনেক ভিড়ের কারণে স্বেচ্ছাসেবীদেরও সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয়।পারপুগী উচ্চ বিদ্যালয়ের তানিশা মিম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে শৃঙ্খলার কোনো বালাই নাই। স্বেচ্ছাসেবীদের লাঠির আঘাতে কেউ একজন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সিভিল সার্জন ডা. নূর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পুরাতন সদর হাসপাতালে বুস্টার ডোজ ও করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে। বুথ সংখ্যা কম থাকায় কেন্দ্রের পাশে ভিড় জমছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠি পেটার ঘটনা দুঃখজনক।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনার টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা কেন ঘটলো তা খতিয়ে দেখা হবে।