বাঁশখালীতে গুণীজন স্মরণ সভা

65

এনামুল হক রাশেদী, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় গুণীজন স্মরন সভা ও মরনোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ফেব্রুয়ারী’ ২০২২ ইং। “গন্ডামারা-বড়ঘোনা উন্নয়ন পরিষদ” নামে জনপ্রিয় একটি সেবা, উন্নয়ন ও সামাজিক সংগঠন মহতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।১৭ ফেব্রুয়ারী’২২ ইং সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কলামিস্ট নুরুল মোহাম্মদ কাদের ও সাধারন সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক সিকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, উপকূলীয় জনপদ গন্ডামারায় ক্ষনজন্মা কিছু সংখ্যক পুরুষ যারা নিজেদের স্বকীয় মেধা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিদীপ্ততায় যুগে যুগে নিজেদের মেধার আলো ছড়িয়ে পিছিয়ে পড়া সমাজকে আলোকিত করেছে, একটি সুন্দর, সৃজনশীল ও আলোকিত সমাজ গড়তে যারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখেছেন, তাদের মেধা ও কির্তির স্মরন ও স্বিকৃতি না জানালে জাতী হিসাবে আমরা বড় অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেব। গন্ডামারা বড়ঘোনা উন্নয়ন পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে গুণী ব্যক্তির স্মরণ স্বিকৃতি প্রতিষ্টার পাশাপাশি সেসব গুনিজনদের দেখানো আলোকবর্তিকা সমাজে চালু রাখতে যাত্রালগ্ন থেকে কাজ করে আসছে। স্বাধিনতা পরবর্তি ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে গণ্ডামারা ইউনিয়নে যেসব গুনীজন মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের মধ্য থেকে ৬ গুণী ব্যক্তিদেরকে নিয়ে প্রথম বারের মত স্মরণ সভা ও মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছে গন্ডামারা বড়ঘোনা উন্নয়ন পরিষদ। ১৯ ফেব্রুয়ারী’২২ ইং শনিবার গন্ডামারা বড়ঘোনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল, মুখ্য আলোচক থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ডক্টর মোঃ ফরিদ উদ্দিন ফারুক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী, কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাসনা হেনা চৌধুরী ও বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ কামাল উদ্দিন সহ ইউনিয়ন ও ইউনিয়নের বাইরের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সাংবাদিক, পেশাজীবি, গুনিজনরা সহ ছাত্র-শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
প্রথমবার যেসব গুণীজনকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে তাঁরা হলেন, বিশিষ্ঠ গুনিজন মাস্টার আব্দুল খালেক চৌধুরী, মুফতি আব্দুস সামাদ সিকদার, মাওলানা ফরিদুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোক্তার আহমদ মেম্বার ও স্বর্গীয় পুলিন বিহারী সুশীল।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিদগ্ধজনদের লেখায় সমৃদ্ধ “স্মৃতি ও শ্রুতি” নামে ঐতিহাসিক একটি দৃষ্টিনন্দন স্যুভেনীরের মোড়ক ও উম্মোচন করা হবে।অনুষ্ঠানটি আরো পুর্বে হওয়ার কথা থাকলেও ১৩ জানুয়ারি’২২ ইং থেকে কোভিড মহামারী কালীন সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকায় পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী মোতাবেক স্মরণসভা ও মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।
সংগঠনের সভাপতি নুরুল মুহাম্মদ কাদের জানান, গন্ডামারা ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিষদ চট্টগ্রাম ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে শুরু করে অদ্যবধি পর্যন্ত শিক্ষা নৈতিকতা অসম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সহ সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আর্তমানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো ৬ গুণীজনকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আরও বিশিষ্ট গুণীজনদের কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক সিকদার বলেন, গুণীজনদের সম্মান করা আমাদের প্রত্যেকেরই নৈতিক দায়িত্ব। যে দেশে গুণীজন কদর করে না সেদেশে গুণীজন সৃষ্টি হয় না। ইতিমধ্যে সংগঠনটি নানাবিধ কর্মকাণ্ডে বেশ প্রশংসা অর্জন করেছে ভবিষ্যতেও জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এই সংগঠনটি মানুষের পাশে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গন্ডামারা উন্নয়ন পরিষদ চট্টগ্রামের ২০১২ সালে যাত্রার পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাঁশখালী খাটখালি নৌ বন্দর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পশ্চিম বাঁশখালী হোক দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত এই শ্লোগানে জনসচেতনামূলক কর্মসূচি, এলাকায় অসহায় গরীব মানুষদের কে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করন, যুব ছাত্র সমাজকে অসামাজিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার নিমিত্তে ক্রীড়ামুখী করার লক্ষ্যে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন, করোনাকালীন বিপর্যয় সময়ে জনসচেতনতার লক্ষ্যে মাক্স বিতরণ সহ
এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে সহায়তা করার মতো নানা বিধ কর্মকাণ্ডে বেশ প্রশংসিত হয়েছে সংগঠনটি।