গোপন ভিডিও ধারন করে ব্লাকমেইল করত সে

27

দেশ ও বিদেশে চাকরীর প্রলোভনে শতাধিক নারীর ভার্চুয়াল মেডিকেলের নামে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ঢাকার নর্দ্দা থেকে আল ফাহাদ (১৯)’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিএমপির গুলশান থানার নর্দ্দা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ১টি ক্যামেরা,২টি ক্যামেরার লেন্স ও ১টি মোবাইল ফোন,৬টি সীমকার্ড,১টি এক্সটার্নাল মেমোরী কার্ড ও ৪০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধীরা ভার্চুয়াল জগতের অপব্যবহার করে কলুষিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এক শ্রেণীর ভার্চুয়াল প্রতারকদের দ্বারা নারীরা বিভিন্নভাবে হেনস্তা,প্রতারণা ও বø্যাকমেইলিং এর ফাঁদে পড়েছে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বিষয়টি রিপোর্ট টু র‌্যাব ও র‌্যাবের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবহিত করে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব এই প্রতারণার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির গুলশান থানার নর্দ্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভার্চুয়াল মেডিকেল স্ক্যানিং এর নামে গোপন ভিডিও চিত্র ধারণ করে বø্যাকমেইলিং এর অপরাধে প্রতারক আল ফাহাদ (১৯) কে গ্রেফতার করে বলে জানান তিনি।

গ্রেফতারকৃত ফাহাদ অসংখ্য নারীর সাথে প্রতারণার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে জানায়, সে ইন্টারনেট ব্যবহার করে স্যোসাল মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে দেশী বিদেশী ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় উচ্চ বেতনের চাকরীর প্রলোভন দেখাত। ফলে অনেকেই তার সাথে যোগাযোগ করত। চাকরী প্রার্থী প্রতি জনের নিকট হতে সে ৩৫০-৫০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নিত,যাতে অধিক সংখ্যক গ্রাহককে আকৃষ্ট করা যায়। অন্যদিকে টাকার পরিমান স্বল্প হওয়ায় ভিকটিমরা চাপ প্রয়োগ করবে না বলে সেই ধারণার বশবর্তী হয়ে সে এসব কাজে যুক্ত হয় বলে জানায়।

গ্রেফতারকৃত মোবাইলে বিশেষ অ্যাপস এর মাধ্যমে নারী কণ্ঠে চাকরী প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত। সে বিভিন্ন কৌশলে প্রার্থীদের করোনাকালীন সময়ে ভার্চুয়াল মেডিকেল করা হবে বলে জানাত। এভাবে প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক চ্যাটিং অ্যাপস এর মাধ্যমে ভিডিও কলে যুক্ত হত।

এসম সে নিজের মোবাইলের ক্যামেরা বন্ধ রেখে ভিডিও কলে মেডিকেল পরীক্ষা নেওয়ার নামে বিভিন্ন কৌশলে ভিকটিমদের গোপন ভিডিও ধারণ করত। পরবর্তীতে ভিকটিমদের ওইসব গোপন ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবী করত। এভাবে সে শতাধিক নারীদের ব্লাকমেইল করেছে বলে জানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আরও জানায় যে, চাকরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে সকল ধাপগুলো প্রাথমিকভাবে অতিক্রম করতে হয় সে সকল ধাপগুলো সে নিজেই বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে ভয়েজ পরিবর্তন করে ভিকটিমদের সাথে কথা বলে ভূয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করত। এক্ষেত্রে সে বিভিন্ন মেয়ের নাম ধারণ করে ভিকটিমদের নিকট প্রথমে নিজেকে দেশী/বিদেশী বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত বলে পরিচয় দিত এবং সে নিজেও একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই চাকুরীতে যোগদান করেছে বলে জানাত।

পরবর্তীতে সে নিজেই ওই কোম্পানীর এডমিন অফিসার হিসেবে বিভিন্ন নামে পরিচয় দিত এবং ভিকটিমদের ইন্টারভিউ নিত। পুনরায় ওই অ্যাপস এর মাধ্যমে ভয়েজ পরিবর্তন করে নিজেই মেডিকেল অফিসার হিসেবে ভিকটিমদের ভার্চুয়াল মেডিকেল করানোর নামে ভিডিও করত। যেহেতু করোনাকালীন সময়ে হাসপাতালে গিয়ে মেডিকেল করা সহজতর ছিলো না সেক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমদের ব্লাকমেইলিং করত।