কালীগঞ্জে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ লোপাট

45

আব্দুর রহিম, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ কোন রকম দায় সারাভাবে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের সরকারি বরাদ্দ ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫ শত টাকা লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ৫০ টি স্টল থাকার কথা থাকলেও ১৭ টি স্টল দিয়ে এবং দায়সারা একটি ছোট স্টেজে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেও অধিকাংশ আগত অতিথিরা দুপুরের খাবার না পেয়ে অভুক্ত অবস্থায় ফিরে যেতে দেখা গেছে।
অনুষ্ঠান কভার করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মনোজিৎকুমার মন্ডলের নিকট আমন্ত্রণ পত্র চাইলেও পাওয়া যায়নি।পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলাম কে জানালে তিনি আমন্ত্রণপত্র সাংবাদিকদের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিস ও ভেটেনারি হাসপাতালে এর আয়োজনে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর (এল ডি ডি পি) অর্থায়নে বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ মাঠ চত্বরে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলা ২ টার সময় ফিতা কেটে উদ্বোধন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান।ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ গাজী শওকত হোসেন, মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মনোজিৎকুমার মন্ডল প্রমূখ।অনুষ্ঠানটি সকাল ৯ টার সময় উদ্বোধনের কথা থাকলেও বেলা ২টার সময় উদ্বোধন শেষে ৪০ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে বরাদ্দ খাতওয়ারি দিকনির্দেশনা দিয়ে ২লক্ষ ৩৩বাজার ৫শত টাকা থাকলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মনোজিৎ কুমার মন্ডল অর্থ লোপাট করতে উত্তর কালীগঞ্জের সোমা ডেকোরেটরের মালিক শরিফুল ইসলাম কে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ১৭টি স্টল একটি ছোট স্টেজ করে দায়সারাভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।
বিভিন্ন স্টলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেনারি সহ বিভিন্ন মালামাল যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীতে এনে স্টলের শোভা বর্ধন করে। দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের খামার মালিক আসাদুজ্জামান উক সা গ্রামের গোলাম রহমান এবং নলতা গ্রামের মনিরের দুইটা সহ পাঁচটি জার্সি গরু এনে স্টলের শোভাবর্ধন করলেও গরু গুলোর খাওয়া বাবদ কোন খরচ দেওয়া হয়নি বলে খামার মালিকরা সাংবাদিকদের জানান।অনুষ্ঠান শেষে ৮০ টাকা মূল্যের এক প্যাকেট খাবার দিয়ে আগত এবং স্টল মালিকসহ শতাধিক লোককে দুপুরের খাবার দিলেও অধিকাংশ আগত অতিথিরা অভুক্ত অবস্থায় ফেরত যেতে দেখা গেছে। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নজরে আনলে কিছু অতিথিকে হোটেল থেকে খাবার এর প্যাকেট এনে দেওয়া হয়।অথচ অনুষ্ঠানের সরকারি ভাবে বরাদ্দ ছিল ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫শত টাকা খাতওয়ারী বরাদ্দের মধ্যে ছিল ২টি ব্যানার তৈরির জন্য ১৫শত টাকা প্যান্ডেল, স্টেজ, ত্রিপল, সি আর, ফ্যান, সাউন্ড সিস্টেম, ডেকোরেশন এবং ৫০টি স্টলের জন্য বরাদ্দ৬৯ হাজার ৫শত টাকা। আমন্ত্রণপত্র ছাপানো বাবদ৫ হাজার টাকা হলেও হাতেগোনা শতাধিক আমন্ত্রণ পত্র দায়সারাভাবে ছাপানো হয়। অনুষ্ঠানে ৩জন অতিথি কে সম্মানী বাবদ জনপ্রতি ৩হাজার টাকা করে৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।
অতিথিদের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের জন্য জনপ্রতি ৪শত টাকা করে ৫০ জনের ২০হাজার টাকা। অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি খামারি সহ ৩০০ জনের জন্য জনপ্রতি ২শত টাকা করে ৬০হাজার টাকা। ৫০জন স্টল মালিক জনপ্রতি একশত টাকা করে ৫০০০টাকা। স্টল মালিক অতিথিদের পানি বাবদ ১২,৫০০ টাকা ৫০টি স্টলের ভ্যাকসিন মালিকদের একশত টাকা করে খাবারের জন্য ৫০০০ টাকা তিনজন শ্রেষ্ঠ খামারের জন্য পুরস্কার বাবদ জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে৩০০০০টাকা। স্টলের মালামাল পরিবহনের জন্য গাড়ি ভাড়া বাবদ ১০০০০টাকা এবং অনুষ্ঠানটি ব্যাপক প্রচারের জন্য ৫০০০০টাকা বরাদ্দ করা হয়।এইভাবে খাতওয়ারি সরকারি নির্দেশনা দিয়ে বরাদ্দ থাকলেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং আয়োজক কমিটির যোগসাজশে ৫০০০০টাকা খরচ করে অনুষ্ঠান শেষ করে বাকি টাকা লোপাটের এর অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও পোল্ট্রি চাষীদের নামে ভুয়া তালিকা করে তালিকা তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল।কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মনোজিৎকুমার মন্ডল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং বরাদ্দের কত টাকা জানতে চাইলে সে বিষয়েও তিনি মুখ খোলেননি। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে জানালে তিনি সাংবাদিকদের মেসেঞ্জারে একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।