ফ্ল্যাট বাসায় বিআরটিএ অফিস,নিজেরাই তৈরি করতেন পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট

23

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বাংলাদেশ রোড এন্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)’র অসাধু কর্মকর্তার ও কর্মচারীদের যোগসাজশে অভিজ্ঞতা ছাড়াই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে আসল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতো একটি চক্র। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এমন অসাধু কাজ করে আসছিলেন। এমনই এক দালাল চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে,ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুলের আড়ালে বিভিন্ন অপরাধীরা কোনো ধরনের পুলিশ ভেরিঢিকেশন ছাড়াই দালালদের মাধ্যমে লাইসেন্স সংগ্রহ করছে। বৈধ লাইসেন্স ব্যবহার করে অনভিজ্ঞ চালকদের হাতে সড়ক দূর্ঘটনা,বিভিন্ন চক্র খাদ্য ও গার্মেন্টস পণ্য চুরি এবং সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি সড়ক দূর্ঘটনা ও ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দালাল চক্রের সদস্যদের সন্ধান পায়া গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত দালাল সদস্যরা হলেন লিটন পাইক (৪০),সুজন পাইক (২৯),হাসান শেখ ওরফে আকচান (৪১),মোহাম্মদ আলী ওরফে মিস্টার (৫১),হুমায়ুন করিব (৩৮),আব্দুল খালেক (৩১),আব্দুল্লাহ রনি (২৩),সোহেল রানা (২৩),সোহাগ (২৩),মো.নুরনবী (৩৮) ও হুমায়ুন করিব (৩৮)।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিবি প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন,সম্প্রতি কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন যায়গায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ও চুরি,ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের তথ্য বেড়িয়ে আসে। পরে রাজধানীর মিরপুরে মাজার রোড এলাকায় একটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে কয়েকজন দালাল মিলে নিজেরাই বিআরটিএ অফিস খুলে বসেছে। এই অফিসে বসে তারা,ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদনের পুলিশ ভেরিফিকেশন,ডোপ টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে জমা দেওয়া হতো। আর এই সকল ভুয়া নথি দিয়েই দালালরা টাকার বিনিময়ে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে নিত।

হাফিজ আক্তার আরো বলেন,এই সকল লাইসেন্স আসলে হলেও ব্যবহারকারী ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ছিল ভুয়া। ফলে তারা সড়কে গাড়ি চালানোর নাম করে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যেত। এই দালাল চক্রের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নানান অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে দালাদের কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের প্রায় দুই শতাধিক ফরম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফরমের আবেদনকারীদের ছবি সংবলিত তথ্য ও বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল মান্নান,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাঈমা বেগম, এনামুল হক ইমন নামের কর্মকর্তাদের স্বক্ষর ও সিলমোহরের সিল রয়েছে। এই সকল গুরুত্বপূর্ণ ভুয়া নথি তৈরিতে ব্যবহৃত কমপিউটার,প্রিন্টার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার দালাল সদস্যরা গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে, বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগশ্বাসসে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সিল মোহরযুক্ত ও স্বাক্ষরিত পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট তৈরি করে সেগুলো দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে আসছিল। সারা বাংলাদেশে ১৪২ টি ড্রাইভিং লাইসেন্স স্কুল আছে এবং এদের অধিকাংশ এধরনের কাজের সাথে যুক্ত। নিয়মকে অনিয়মে পরিণত করে এই দালাল চক্র। বিআরটিএ কিছু অসাধু কর্মকতার সাথে যোগসাজস করে কোন প্রকার ট্রেনিং ছাড়াই অদক্ষ ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরী করে দিতো। এর ফলে লাইসেন্স পাচ্ছে অদক্ষ ড্রাইভার, দিন দিন বাড়ছে দূর্ঘটনার সংখ্যা।

এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার বলেন,ড্রাইভিং স্কুল গুলো প্রশিক্ষণের প্যাকেজ হিসেবে অনেক সময় লাইসেন্স করে দেওয়ার চুক্তি করে। এই সুযোগে বিভিন্ন অপরাধী চক্র লাইসেন্স করে নিচ্ছে। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে। তদন্তকরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।