
পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় থানা ব্রীজ সংলগ্নে বিরোধর্পূণ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন আ’লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি চক্র। ক্ষমতার দাপট আর পুলিশের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় অসহায় পরিবারকে তাদের সম্পত্তি থেকে
উচ্ছেদ করতে প্রকাশ্য দিবালোকে সীমানা বেড়া ভাংচুর ও অস্থায়ী টংঘর বসিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। এসময় অবৈধ দখলদার প্রতিরোধে আইনী সহায়তা চাইলেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় দুমকি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ
সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন অসহায় জাকিয়া সোবাহান দম্পতি। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ অবশ্য জোড়দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে ক্রয়কৃত নিজ সম্পত্তি বুঝে নেয়ার দাবি করেছেন।মঙ্গবার আয়োজিত জনার্কীণ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার জলিশা গ্রামের বাসিন্দা সোবাহান চৌকিদারের স্ত্রী মোসা: জাকিয়া বেগম লিখিত বক্তব্যে জানায়, উপজেলার
শ্রীরামপুর মৌজার এস.এ ৩৩৫ নং খতিয়ানের ২০০৮ নং দাগের রের্কডিও মালিক আবেজান বিবির ওয়ারিশ ও সাব কবলা মূলে ৯০শতাংশ সম্পত্তির মালিক হিসেবে বিগত ১২বছর যাবত ভোগ দখলে আছেন। লেবুখালী-চরগরবদি মহাসড়ক ও থানা ব্রীজের পাশে ওই প্লটটির অবস্থান হওয়ায় প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে। প্রতিপক্ষ ওয়ারিশ শাহআলমের কাছ থেকে ৯শতাংশের একটি কবলা দলিল সৃষ্টি করে তাকে জাকিয়া বেগম ‘কে বেদখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।এর অংশ হিসেবে পটুয়াখালী সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে দায়ের করা ১৭০/১৪ দেওয়ানী মামলার বাদির র্দীঘ অনুপস্থিতিতে খারিজ এবং নামজারী কেসের রিভিউ খারিজ হয়।
এ সংক্রান্তে উচ্চ আদালতে পর পর দু’টি রায়ে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাসীন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ও শক্তির মহড়ায় তাকে (জাকিয়া বেগম)কে উচ্ছেদের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। জাকিয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ দখল প্রতিরোধে আইনী সহায়তা চাইলেও থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।৩০ নভেম্বর পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ করে আইনী সহায়তা চান। পুলিশ সুপার দুমকি থানার অফিসার ইনর্চাজ কে তদন্তর্পূবক আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেও থানা পুলিশ রহস্যজনক আচরণ করছে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে র্আথিক সুবিধা নিয়ে অবৈধ দখলদারদের পক্ষ নিয়েছে বলে অভিযোগ জাকিয়ার অভিযোগের বিষয়ে দুমকি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, জাকিয়া প্রকৃতপক্ষে ওই সম্পত্তির কোন ওয়ারিশই নহে। প্রকৃত ওয়ারিশ শাহ আলম ঘরামীর কাছ থেকে উক্ত দাগ ও খতিয়ানের জমি নগদ টাকায় কিনেছি। আমার কেনা সম্পত্তির দখল বুঝে নেয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে।দুমকি থানার অফিসার ইনর্চাজ তারেক মো: আবদুল হান্না জানান,এখানে পুলিশের পক্ষপাতিত্বের কিছু নেই। আকস্মিক টিনের বেড়া অপসারনের অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমিতে কোন স্থাপনা না করতে র্নিদেশনা দেয়া হয়েছে। দু’পক্ষকে আদালতের স্মরণাপন্নের পরার্মশ দেয়া হয়েছে। এর আগে যারা-ই আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটাতে
চাইবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।