ভুয়া সেনা কর্মকর্তার পরিচয়ে কোটি টাকা প্রতারণা, গ্রেফতার ১

19

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

কখনও কোম্পানীর সিইও আবার মার্কেটিং ম্যানেজার কিংবা মার্চেন্ডাইজার। আবার কখনও দিতেন সেনা কর্মকর্তার পরিচয়। এভাবেই বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতরাণা করে কোটি টাকা আত্মসাৎ করত
সালাউদ্দিন ভূইয়া (৫৫)।

গতকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি)রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে এই ভুয়া প্রতারককে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন,রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস এক্সেসরিজ কোম্পানীর নিকট ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে প্রতারক সালাউদ্দিন ভূইয়া। সে কখনও বিভিন্ন কোম্পানীর সিইও/মার্কেটিং ম্যানেজার/মার্চেন্ডাইজার ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টস কোম্পানীর নিকট হতে জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের জন্য ক্রয়পত্র বিতরণ করে।

ভূয়া ক্রয়াদেশ প্রাপ্ত হয়ে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ কোম্পানীগুলো ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ পণ্য ডেলিভারী করত সে। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন ভূইয়া পণ্য ডেলিভারি পাওয়ার পর তাদের টাকা পরিশোধ না করে পণ্যগুলো বিভিন্ন কোম্পানীর নিকট বিক্রি করে দেয়। ভুক্তভোগীরা তার নিকট থেকে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে সে টাকা না দিয়ে বরং তাদের সাথে খারাপ আচরণসহ নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা/আইজিপি’র আত্মীয়/সাংসদের আত্মীয় ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছে বলে জানা যায়।

প্রতারকের এমন প্রতারণায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান র‌্যাব-১ এর নিকট আইনি সহায়তা কামনা করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ফলশ্রুতিতে র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় গত রাতে র‌্যাব-১ এর আভিযানিক করে প্রতারক এ এম এম সালাউদ্দিন ভূইয়াকে গ্রেফতার করে।

এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত বাঁধাইকৃত ১ টি ফটোফ্রেম,সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ১টি করে গেঞ্জি,ক্যাপ,মানিব্যাগ ও মেডেল,৪ টি জাল লেটার প্যাড,১ টি জাল সীল,২টি জাল ক্রয়াদেশ,২ টি জাল সোয়াচ প্যাড,২টি চেক বই,৩ টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কন্টেন্ট এবং নগদ ৯ হাজার ৮৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সালাউদ্দিন বিভিন্ন প্রতারণার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানান মঈন।

মঈন বলেন,সালাউদ্দিন ভুইয়া বিগত প্রায় ৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায় যে, সে কোটি টাকার অধিক আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে সে মহাখালীর একটি অফিসে সাবলেট ভাড়া নিয়ে বিগত ৩ মাস যাবত এমন কাজ পরিচালনা করে আসছিল বলে জানায় মঈন।

সে কোন ঠিকানায় ৬ মাসের বেশি অবস্থান করে না। এছাড়া ফটোশপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি এডিট করে মূলত প্রতারণার কাজে ব্যবহার করে থাকে। ইতোপূর্বে তার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে প্রতারণার মামলা ও বিভিন্ন থানায় ৩ টি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ভ‚ক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।